মাদক ও বাল্যবিয়ে রোধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা

 

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক অপরাধ নির্মূলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক পাচার রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং জেলায় ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে সভায় জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে বাল্যবিয়ে বন্ধে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কাজীদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়। সম্প্রতি জেলায় আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এটি রোধে ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজার দর ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং সেলকে সজাগ থাকার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।’ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল কবীর, সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম সাজ্জাদ এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নজরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, জেলা খামার বাড়ির উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাহিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ জে এম সিরাজুম মুনির এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘মেহেরপুরকে একটি উন্নত ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More