শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস

চুয়াডাঙ্গায় দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে নিম্নআয়ের ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ। গত সপ্তাহের মাঝামাঝিতে দেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। শৈত্যপ্রবাহ শেষ হলেও শীতকালীন অবস্থা পুরো মাসজুড়েই থাকতে পারে। তবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এদিকে চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন স্থানে দুস্থ শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ২০ ও ২৯ ডিসেম্বর এ অঞ্চলে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিলো। এটিই চলতি শীত মরসুমে শ্রীমঙ্গলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ছিলো ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো টেকনাফে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে রোববার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৩ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ১১ দশমিক ৫, চট্টগ্রামে ১৪, সিলেটে ১২, রাজশাহীতে ১০ দশমিক ৬, রংপুরে ১১, খুলনায় ১২ দশমিক ৬ এবং বরিশালে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, যেহেতু কুয়াশা আছে, সূর্যের দেখা মিলছে না, এ জন্য শীতের অনুভূতি থাকবে। আজ সোমবার থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে জানিয়ে বলেছেন মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে শৈত্যপ্রবাহ কাটতে শুরু করবে। জানুয়ারি মাসের পুরোটাই শীতকাল। তাই এ মাসে শৈত্যপ্রবাহ থাকুক আর নাই থাকুক শীত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস বলছে, তিন দিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ এ মাসের বাকি সময়জুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে। মাঝে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি বাতাসে জলীয় বাষ্প ও আকাশে মেঘ বেড়ে যেতে পারে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা ও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়তে পারে। এরপর তাপমাত্রা আবারও কমতে থাকবে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালের মতো বড় শহরগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা নেই বলে জানান অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ মাসের শেষ সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু বড় শহরগুলোতে ধুলার সঙ্গে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা বাতাসে জলীয় বাষ্পমিশ্রিত ধুলা মিশে তাপমাত্রাকে কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। আবহাওয়ার এমন আচরণকে অস্বাভাবিক বা প্রকৃতির বিরূপ আচরণ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, চলতি বছর এখনও ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ হয়নি। এবার ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এমনটা প্রতি বছর হয় না। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং এর নিচে নামলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
চুয়াডাঙ্গায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক। গতকাল বেলা ৩টায় চেম্বার ভবন মিলনায়তনে চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের আয়োজনে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার যেভাবে অসহায় শীতার্তদের মাঝে এগিয়ে এসেছে ঠিক সেই ভাবে প্রত্যেকটি সংগঠন, ব্যক্তিকে হতদরিদ্র শীতার্তদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। এ সময় তিনি জেলার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘কন্যা সন্তান বোঝা নয়, আশির্বাদ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গার কৃতিসন্তান রিপনুল হাসান রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চেম্বারের পরিচালক হারুন অর রশিদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, পরিচালক সালাউদ্দিন মো. মর্ত্তুজা, এ.কে.এম সালাউদ্দিন মিঠু, এস.এম তসলিম আরিফ বাবু, কিশোর কুমার কু-ু, নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার, কামরুল ইসলাম হিরা ও আফসার উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম সেলিম।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More