গাংনীতে আওয়ামী লীগের জনসভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়

গাংনী প্রতিনিধি: গাংনী পৌরসভায় নৌকা প্রতীক বিজয়ের মধ্যদিয়ে গাংনীতে নতুন উন্নয়ন শুরু হলো বলে গাংনীবাসীর প্রতি আশার খবর দিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা মূলত জনস্রোতে রূপ নেয়। জনসভায় মঞ্চে গাংনীর ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের ভূয়সী প্রশংসা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, এ পৌর নির্বাচনে গাংনীর মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের গতিকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে আমাদের উন্নয়ন পেতে গেলে অবশ্যই নৌকার মেয়র থাকা প্রয়োজন। নৌকার মেয়র থাকলেই আমাদের নৌকার উন্নয়ন হবে, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন হবে, দেশের মানুষের উন্নয়ন হবে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই দেশের মানুষের উন্নয়ন হয় এটি আজকে প্রত্যেকটি মানুষের কাছে প্রমাণিত সত্য।
জাতির পিতার নামখ্যাত মুজিবনগর বাংলাদেশে একটিই আছে সেটি আমাদের মুজিবনগর উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশের প্রথম রাজধানী মুজিবনগর হিসেবে মেহেরপুরকে সারা দেশের মানুষ চেনে। সারা দেশের মানুষ বিশ^াস করেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানকার লোক হিসেবে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে তিনি মেহেরপুরের মান সম্মানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে যে, এ মুজিবনগরখ্যাত মেহেরপুর জেলার সার্বিক উন্নয়নে সব নির্বাচনেই নৌকা বিজয়ের কোনো বিকল্প নাই। সেক্ষেত্রে এ গাংনীবাসী পৌর নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে এটি যেহেতু মুজিবনগর তাই আওয়ামী লীগ ব্যতিত অন্য কোনো সরকার এ মেহেরপুরের উন্নয়ন কখনও করেনি এবং করবেও না। তাই টুঙ্গিপাড়ার মতোই মেহেরপুরেও যেদিকে তাকানো যাবে সেদিকে শুধুই আওয়ামী লীগ হবে এমনটি করতে হবে। মেহেরপুর জেলাকে আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত করতে হবে।
আজকের এ বিশাল জনসভায় ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরাট সম্ভাবনা দেখাচ্ছে উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, আমাদের নেতৃত্ব যদি ভালো থাকে, আমরা যদি ভালো কাজ করি তাহলে আজকে যারা বিরোধিতায় আছেন তাদের আর বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবে না। আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বারো বছরে উন্নয়ন ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি অত্যান্ত শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতএব আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে মেহেরপুরের দুটি আসনসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আমরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করবো। গাংনী পৌরসভার এই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের শপথ করতে হবে আমাদের ঐক্যে যেন ফাটল না ধরে। কারণ ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হবে। সমস্ত দ্বিধা ভুলে গিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নবনির্বাচিত গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলীকে অত্যান্ত যোগ্য লোক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি যোগ্য নেতা এবং আগেও মেয়র ছিলেন। তাকে আবারও মনোনয়ন দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সম্মানিত করেছেন। আর গাংনীবাসী তাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করলেন। আমি আহম্মেদ আলী ভাইকে বলবো উন্নয়ন করতে হবে। মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছেন উন্নয়নের জন্য। মানুষ উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তাঘাট স্কুল কলেজের ভবন উন্নয়ন বোঝে না। মানুষের সাথে সম্পর্কসহ সব বিষয়ে আপনাকে উন্নয়ন করতে হবে। গাংনী পৌরসভার উন্নয়নে আমি সবসময় গাংনী পৌরসভাসহ গাংনীবাসীর পাশে আছি বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
এদিকে বিকেল থেকেই জনসভাস্থলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। প্রতিমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছুনোর আগেই জনস্রোতে পরিণত হয় জনসভাস্থলসহ এর আশেপাশের সড়কগুলো। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত গাংনী পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয় প্রতিমন্ত্রীকে। গাংনী পৌরসভার উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি তুলে ধরেন মেয়র আহম্মেদ আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হালিম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেক। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহিম শাহীন, সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, গাংনী পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মেদ আলী, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, গাংনী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাবলু, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বাধন, মটমুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসেম, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু, সাবেক ছাত্রনেতা ইসমাইল হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল পলাশ।
গত ১৬ জানুয়ারি গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহম্মেদ আলী জয়লাভ করেন। দলীয় এ ত্যাগী নেতার মনোনয়ন প্রাপ্তির মাধ্যমে গাংনী আওয়ামী লীগ পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নৌকা প্রতীক বিজয়ের পর গাংনীতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেনের জনসভা করার দাবি উঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্য থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় পৌর পরিষদ ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় গতকালের জনসভা।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More