চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল ও পরিবহন মালিকদের তেল কিনতে লাগবে ফুয়েল কার্ড

আজ থেকে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ, বিপণন ও ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে মোটরসাইকেল, অন্যান্য পরিবহন তেল কেনার ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১ এপ্রিল বুধবার থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এই কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল ও পরিবহনে তেল সরবরাহ করা হবে না। এ ছাড়া কোনো কনটেইনার বা জারে পেট্রোল ও অকটেন তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেলের মজুত, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, তেলের কোনো সংকট নেই। তেল ট্যাঙ্কার আসতে সমস্যা হচ্ছে না। একটি পক্ষ বলছে তেলের সংকট, এটি সঠিক নয়। অজানা আতঙ্ক থেকে উত্তরণের জন্য কার্ড চালু করতে চাই। সকল গাড়ির মালিকগণ সংগ্রহ করে নেবেন। যে গাড়িগুলো অবৈধ তারা তেল পাবে না। কনটেইনারে তেল দেয়া হবে না। যারা গাড়ি চালায় তারা গাড়ি নিয়ে যাবেন। কৃষকরা কনটেনারে করে তেল পাবেন। গাড়ির মালিক নিতে পারবে না। তেল চুরিরোধে প্রয়োজনে শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছেড়ে দেন। জেলায় ২২টি তেল পাম্প আছে। ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে। তেলে হিসাব ঠিক না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চার উপজেলায় মাইকিং করে জনগণকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ সোমবার ও মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) কার্যালয় থেকে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ঠ মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফটোকপি, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। সকল কাগজপত্রের সাথে মূলকপি সাথে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, রেজিস্ট্রেশন ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফিটনেসের ফটোকপি ও ট্যাক্স টোকেন ফটোকপি। তিনি আরও জানান, ১ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে ফুয়েল কার্ড দেখিয়ে মোটরসাইকেল ও পরিবহনে তেল সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো পাম্প থেকে পেট্রোল ও অকটেন তেল সরবরাহ করা হবে না। তবে, ডিজেল তেল সরবরাহ চালু থাকবে। কোনো পাম্প কর্মচারী অনিয়ম বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। জরুরি সেবার ক্ষেত্রে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও গণমাধ্যমকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজ ও পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা সরবরাহ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, ‘৩০ মার্চ থেকে জেলায় রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। অর্থাৎ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কেউ মোটরসাইকেল চালাবেন না। কেউ তদবির করবেন না। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ‘সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যেন ভারতে তেল পাচার না হয়। এ বিষয়ে মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। আপনারা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করবেন।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিএম তারিক-উজ-জামান সঞ্চালনা করেন। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, ৬-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম আরিফ বাবু, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশীদ টনিক, পেট্রোল পাম্প মালিক আবুল কালাম, মামুন অর রশিদ আঙ্গুর ও মনিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজাদ মালিতা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী ও বিপুল আশরাফ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকতার হোসেন জোয়ার্দ্দার ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান, জেলা দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ ও সদস্য সচিব সুমন পারভেজ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান ও সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা এবং জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিবসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পাম্প মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More