দর্শনা কেরুজ খামারের ১শ বস্তা সার চুরি : ৪০ বস্তা উর্দ্ধার : ফার্ম ইনচার্জ ও চুক্তি ভিত্তীক করণিক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার : দর্শনা কেরুজ চিনিকলের আখ উৎপাদনের জন্য চিনিকল কর্তৃপেক্ষর রয়েছে নিজেস্ব ৯টি বানিজ্যিক খামার। আর এসব বানিজ্যিক খামারে আখ উৎপাদনের জন্য কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে থাকে সার কীটনাশকসহ বিভিন্ন মালামাল। এসব মালামাল অনেক সময় নয় ছয় করে থাকে কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারি। তারি ধারাবাহিকতায় বেগমপুর বানিজ্যিক খামারে বরাদ্ধকৃত ১শ বস্তা জৈব সার চুরি করে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে বিক্রিকৃত সারের মধ্য থেকে জনৈক্য ব্যাক্তির দোকান থেকে ৪০ বস্তা সার উদ্ধার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বেগমপুর কামারের খামার ইনচার্জ কায়েস আব্দুল্লাকে সাময়িক বরখাস্ত ও চুক্তিভিত্তীক করনিক সোহেলকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তবে সঠিক তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানেিয়ছে সচেতন মহল। সেই সাথে প্রশ্ন উঠেছে ইনচার্জ যখন আলমসাধূতে করে সার নিতে আসেন তখন কেন কারখানা ইনচার্জ এবং সুপারভাইজার প্রশ্ন তুললেন না ?
১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দামুড়হুদার দর্শনায় এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চিনিকল ও ডিষ্টিলারীর সমস্বয়ে কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর শিল্পকম্পেলেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠনের মূল উৎপাদিত পণ্য চিনি ও এ্যালকোহল। আর চিনি উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় আখের। এসব আখ উৎপাদনের জন্য চিনিকল কর্তৃপক্ষের রয়েছে নিজেস্ব ৯টি বানিজ্যিক খামার ও একটি পরীক্ষামূলোক বীজ উৎপাদন খামার। খামার গুলো হলো হিজলগাড়ি, বেগমপুর, ফুরশেদপুর, ঝাঝরি, আড়িয়া, ফুলবাড়ি, ছয়ঘরিয়া, ঘোলদাড়ী, ডিহি বানিজ্যিক খামার ও আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলোক বীজ উৎপাদন খামার। মূলতো এসব খামারে আখ উৎপাদন করে থাকে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। আর আখ উৎপাদনের জন্য কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে থাকেন বীজ, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন মালামাল। মাটির উর্বর শক্তি ধরে রাখতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আকন্দবাড়িয়াতে তেরী করেছেন জৈবসার কারখানা। যেখান থেকে প্রতি অর্থবছরে খামারের চাহিদা অনুযায়ি জৈবসার সরবরাহ করা হয়ে থাকে নিজেস্ব খামারগুলোতে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯টি বানিজ্যিক খামারের বিপরীতে চাহিদা মোতাবেক শূণ্য ১৩৭ নং ডিওতে ৪৮৫ মে:টন জৈবসার বরাদ্ধ দেয়া হয়। যার মধ্যে ফুরশেদপুর বানিজ্যিক খামারে ৫০ মে:টন, বেগমপুরে ৬০ মে:টন, ঝাঝরিতে ৬০ মে:টন, আড়িয়াতে ৭০ মে:টন, হিজলগাড়িতে ৫০ মে:টন, ডিহিতে ৭০ মে:টন, ফুলবাড়িতে ৪০ মে:টন, ছয়ঘরিয়াতে ৩৫ মে:টন ও ঘোলদাড়ি বানিজ্যিক খামারে ৫০ মে:টন। অভিযোগ উঠেছে, বেগমপুর বানিজ্যিক খামারের ইনচার্জ কায়েস আব্দুল্লা গত ১২ জুন ১শ (৫০ কেজি) বস্তা জৈব সার নেয়ার চাহিদা প্রত্র দাখিল করেন। ওই দিন শুক্রবার থাকায় কারখানা থেকে চাহিদার সার ছাড় করাতে ব্যার্থ হন তিনি। একটি সূত্র জানায়, কেরুজ নিজেস্ব পরিবহণে সার নেবার কথা থাকলেও খামার ইনচার্জ পরের দিন ১৩ জুন শনিবার উথলী থেকে একটি আলমসাধূ ভাড়া করে ওই সার খামারে না নিয়ে পথিমধ্যে জনৈক দোকান ব্যাক্তির হাতে তুলে দেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে ১৮ জুন সার সার উর্দ্ধারে মাঠে নামে। প্রথম দিন সার উর্দ্ধার করতে ব্যার্থ হলেও পরের দিন জনৈক দোকান দারের দোকন থেকে বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের সহায়তায় ৪০ বস্তা সার উর্দ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। চুরিকৃত ১শ বস্তা সারের মূল্য ৫৫ হাজার টাকা। তবে কার দোকান থেকে উর্দ্ধার করা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে অস্বিকৃতি জানিয়েছেন প্রাথমিক তদন্ত কমিটি। চুরিকৃত সার উর্দ্ধারের ঘটনায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে খামার ইনচার্জ কায়েস আব্দুল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত ও করকিকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন। জৈবসার কারখান ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আব্দুল হালিম বলেন, কারখানাতে প্রতিদিন যে সার উৎপাদন করা হয় বস্তায় গায়ে তারিখ ও সিরিয়াল নাম্বার লেখা থাকে। ১৩ জুন বেগমপুর খামার ইনচার্জ যে ১শ বস্তা সার নিয়েছে তাতেও অনুরূপ লেখা ছিলো। যার সিরিয়াল নাম্বার ছিলো ৩৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ৩২১ এর মধ্যে। তদন্ত সূত্রজানায়, খামারের গোডাউনে ৮২ বস্তা সার মুজত থাকা স্বত্তেও আরও ১শ বস্তা সার ফার্ম ইনচার্জ কেন নিলেন বোধগম্য নয়। প্রথমিক তদন্তে বেগমপুর খামারে গিয়ে স্টোক মেলানো হয়েছে সেকানে প্রায় ঠিকই আছে। তবে বস্তার গায়ে লেখার সাথে কারখানার লেখার তারতম্য লক্ষ করা গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সার কারখানা থেকে ১৩ জুন যে সার নেয়া হয়েছে সম্পূর্ন সারগুলোই খামারে যায়নি। ফার্ম ইনজার্চ রিসিভ করার পর ওই সার জনৈক সার ব্যবসায়ি বুলুর হাতে চলে যায়। আর সার তোলা বা রিসিভ করার ব্যাপারে করণিক অবগতই ছিলেন না। এদিকে সচেতন মহলের দাবি প্রকৃত ঘটনা যেন সঠিক ভাবে সাথে তদন্ত করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন কর্তৃপক্ষ। কেউ যেন মিথ্য বা উদ্দেশ্যমূলোক ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়। সেই সাথে প্রশ্ন উঠেছে ফার্ম ইনচার্জ যখন চিনিকলের পরিবহণ ছাড়া আলমসাধূতে করে সার নিতে আসলেন তখন কারখানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার কেন পরিবহণের ব্যাপারে প্রশ্ন তুললেন না। কেনই বা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেন না যে বেগমপুর ফার্ম ইনচার্জ পাবলিক পরিবহণে করে সার নিতে এসেছে। কারণ এখন অফ সিজেন। কর্তৃপক্ষের কোন পরিবহণ সংকট নেই। এব্যাপারে কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সার চুরির ঘটনা প্রমানিত হওয়ায় গতকাল সোমবার ফার্ম ইনচার্জকে সাময়িক বরখাস্ত ও চুক্তিভিত্তীক করণিককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাবার পর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এটি একটি আইনগত প্রক্রিয়া। আমি পরিস্কার ভাবে বলতে চাই প্রতিষ্ঠনের স্বার্থে কেউ কোন অপরাধ করলে তাকে এতটুকু ছাড় দেয়া হবে না। আগে কি হয়েছে সেটি আমার বিবেচ্য নহে। যতদিন আছি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই। এর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। উল্লেখ্য, গত ১০ জুন কেরুজ আড়িয়া বানিজ্যিক খামারে কাঠ চুরির ঘটনার তিন দিন পর বেগমপুর বানিজ্যিক খামারে সার চুরির ঘটনা ঘটলো। ##

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More