মাগুরায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই ভাইসহ নিহত ৪

স্টাফ রিপোর্টার: মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নে নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই ভাইসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সম্ভাব্য দুই সদস্য পদপ্রার্থীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার দক্ষিণ জগদল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুইপক্ষই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিরা হলেন- সবুর মোল্লা (৬০), কবির মোল্লা (৫৫), রহমান মোল্লা (৫০) ও ইমরান মোল্লা (৪০)। নিহতদের মধ্যে সবুর ও কবির আপন দুই ভাই। তাদের বাবার নাম শাহাবাজ উদ্দিন মোল্লা। আর রহমান মোল্লা হলেন সবুরের চাচাতো ভাই। নিহত ইমরানের বাবার নাম লুৎফর। এ ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে দক্ষিণ জগদল গ্রামে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জগদল ইউনিয়নের জগদল গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও একই এলাকার মাতবর সবুর মোল্লার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে একই ওয়ার্ডে সৈয়দ হাসান নামের এক ব্যক্তি সদস্যপদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। সৈয়দ হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লার পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। গতকাল দুপুরের পর জগদল গ্রামের সৈয়দ রূপাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে সৈয়দ হাসানের সমর্থক সবুর মোল্লা, কবির মোল্লা ও রহমান মোল্লা এবং নজরুল ইসলামের সমর্থক ইমরান হোসেন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আর উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বুধবার জগদল ডাকুরভিটায় দুজনকে গুরুতর জখম করা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সংঘর্ষ বাধে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রফিকুল আহসান বলেন, চারজনকেই মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত সবুর মোল্লার স্ত্রী মেরিনা বেগমের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন প্রকাশ্যে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম জানান, আমি ও সৈয়দ হাসান দুজনই দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিলাম। সে মেম্বার প্রার্থী হওয়ার পর সবুর মোল্লার দলে যোগ দিয়ে আমার লোকদের বিভিন্ন সময় মারধর করেছে, অনেককে মেরে পঙ্গু করে দিয়েছে। শুক্রবার সবুর মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার লোকদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জগদল ইউপির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুইপক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তবে আধিপত্য নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। তিনি বলেন, এক মাস আগে মাগুরা সদর থানায় নজরুল ইসলাম ও সবুর মোল্লাকে ডেকে নিয়ে সালিশ বৈঠক করা হয়। সেখানে দুই পক্ষই কোনো সহিংসতায় জড়াবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছিল। কিন্তু পরে আবার তারা সংঘর্ষে জড়ান।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে জগদল গ্রামে মেম্বার সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More