সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা বলুন : আমরা সমাধানে কাজ করবো

চুয়াডাঙ্গায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে নবাগত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। প্রশাসন ও গণমাধ্যম-উভয়ের মূল লক্ষ্যই হলো জনসেবা। আপনারা জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরুন, আমরা তা সমাধানের পথ খুঁজবো। সমস্যা যত দ্রুত চিহ্নিত হবে, আমাদের উত্তরণের পথ ততো সহজ হবে।’ গতকাল রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে তিনি একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান। শহরের যানজট নিরসনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও বড়বাজারে যত্রতত্র বাস দাঁড়ানো এবং রাস্তায় ইট-বালু-পাথর রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ইজিবাইক ও অটো চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে পৌর প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে তেলের সংকট নেই, বরং অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। যারা বিশৃঙ্খলা করছে তাদের ধরিয়ে দিন।’ কৃষকরা যাতে ভোগান্তি ছাড়াই এজেন্সি পয়েন্ট থেকে ডিজেল পেতে পারেন, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি খাসজমি উদ্ধার এবং চুয়াডাঙ্গার প্রাণ মাথাভাঙ্গা ও নবগঙ্গা নদী দখলমুক্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বহুল প্রতীক্ষিত রেলওয়ে ওভারপাশ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দ এলেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। সরকারি অফিস সূচি (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা অফিসে থাকছেন কি না এবং অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করা হবে। এছাড়া স্কুলে ভর্তির বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তদবির না করার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কেবল পৌর প্রশাসনের পক্ষে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়, প্রত্যেককে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। এছাড়া যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। মতবিনিময়সভায় ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক (উপসচিব) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বি.এম. তারিক-ইজ-জামান ও সহকারী কমিশনার মো. আশফাকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি অ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজাদ মালিতা ও রাজীব হাসান কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী ও বিপুল আশরাফ, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক আকবর, কামরুজ্জামান সেলিম, জিসান আহমেদ, অনিক চক্রবর্তী, এফ.এ. আলমগীর, শামসুজ্জোহা পলাশ ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময়সভায় সাংবাদিক মাহফুজ উদ্দিন খান, আহাদ আলী মোল্লা, আলম আশরাফ, রুবাইত-বিন-আজাদ সুস্থি ও মিজানুর রহমানসহ সাংবাদিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More