হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৬৮৫

 

স্টাফ রিপোর্টার: হামে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। দেশে আরও ৬৮৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে চার শিশু। গতকাল হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যে আরও জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ৩৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ৫৮৫ জন। এ সময়ে হাম শনাক্ত ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে আরও ২৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইপিআই উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ শতাংশ আগে টিকা নেয়নি। তাই যারা আগে কোনো ডোজ পায়নি এবং যাদের বয়স ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এটি ‘আউটব্রেক রেসপন্স’ হিসেবে সীমিত পরিসরে শুরু করছি, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাব, নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করুন। টিকা নেয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে ১৪ দিন সময় লাগে। তবে যদি কেউ টিকা নেওয়ার আগেই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে টিকা নিলে তার অসুস্থতার তীব্রতা কম হবে, হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন কমবে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস পাবে। তাই দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব টিকা নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় গতকাল ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ শিশু ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রহিমা নামের এক শিশু মারা গেছে। রহিমার বাড়ি মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলায়। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তিন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইপিআই স্টোর বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান বলেন, বর্তমানে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল : ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১৫ জন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তিনজনের মধ্যে একজন ছাড়পত্র নিয়ে গতকাল চলে গেছেন। দুজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে আরও ছয়জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তা ছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও নতুন ১৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩২ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন আছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ২০ জন। এ সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে চারজন। অল্প সময়ের মধ্যে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হাম বজ্রপাতের মতো এসেছে। এজন্য কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছি আমরা। গতকাল ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের প্রকোপ বাড়ার জন্য দায়ী বিগত অর্ন্তবর্তী সরকার। আমরা এরই মধ্যে টিকা ক্রয় করার জন্য অর্ডার করেছি। ওটা পেতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। তবে গ্যাভির স্টকে কিছু টিকা আছে, তাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে আমরা আগামী রবিবার থেকে টিকা কার্যক্রমের কাজ শুরু করতে পারব। আর হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকরা জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলি, গত দুই-আড়াই সপ্তাহে আমাদের ডেথ ক্যাজুয়ালিটিজ অনেক কমে এসেছে এবং খুব দ্রুত আক্রান্ত আমাদের সন্তানরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি এই শিশুদের জন্য ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করেছি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More