ডেন্টিসকে তেড়ে তোপের মুখে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট দিতেও টাকা গ্রহণ
স্টাফ রিপোর্টার: মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ান আহমেদের বিরুদ্ধে এবার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা রিপোর্ট দিতে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হওয়ায় জনসেবা ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক আব্দুস সামাদকে মারতে তেড়েছেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করছেন হাসপাতালে সামনের ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে নি¤œমানের এলইডি বাল্ব ৭৭০ টাকা দরে ক্রয়, স্টেশনারি দোকানিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঠিকাদার দেখিয়ে বিল উত্তোলন এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতি মেরামতের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন। তবে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ডা. রেজওয়ান আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন ব্যবসায়ীরা।
জনসেবা ডেন্টাল ক্লিনিক মালিক আব্দুস সামাদের অভিযোগে জানা গেছে, বেশি কিছুদিন আগে আব্দুস সামাদের এক আত্মীয়ের ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর ঢাকায় চিকিৎসার জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। নমুনা দেয়ার পর রিপোর্ট দিতে গড়িমসি করায় ডা. রেজওয়ান আহম্মেদের শরণাপন্ন হন তিনি। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এক হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেন ডা. রেজওয়ান আহমেদ।
এ বিষয়ে আব্দুস সামাদ বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পরিবার দরিদ্র অসহায়। রিপোর্ট নিতে টাকা দিতে বাধ্য করায় আমি খুব মর্মাহত। বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষের কাছে জানাজানি হলে ডা. রেজওয়ান আহমেদ আমার ক্লিনিক বন্ধের হুমকি দেন। তবে করোনা ভাইরাস রিপোর্টে টাকা গ্রহণ ও অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ডা. রেজওয়ান আহমেদ।
এদিকে গেলো ২৩ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সুমাইয়া ফার্মেসিতে বসে আলাপ করছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। খবর পেয়ে সেখানে তেড়ে গিয়ে আব্দুস সামাদকে মারতে উদ্যত হন ডা. রেজওয়ান আহমেদ। যা মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ান আহমেদ স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেয়ার ডায়গনস্টিকের রিপোর্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণ করতে চান না। সেখানে রোগী পাঠাতে তার অধীনস্থ ডাক্তারদেরকে চাপ প্রয়োগ করেন। অপরদিকে সিভিল সার্জনের ভয় দেখিয়ে ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল ও তদন্ত রিপোর্ট আটকে দেয়ার কথা বলে টাকা দাবি করে থাকেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবে দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More