স্টাফ রিপোর্টার: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শালদহ গ্রামের বিলপাড়ায় গত শনিবার সন্ধ্যায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাকিবুল ও মনিরুল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মনিরুল গ্রুপের দুইজন আহত হয়েছেন। এরা হচ্ছেন মনিরুলের ছেলে রাসেল আহমেদ (২৫) ও মেয়ে রিয়া খাতুন (২০)। এরই জের ধরে মনিরুল গ্রুপ প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। হামলা কারীরা রাকিবুলের বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ও মোটর সাইকেলসহ জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় রাকিবুল ইসলামের পরিবার গাংনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে মনিরুল গ্রুপ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবার জানান, কয়েকদিন যাবত তারা বাড়ির সীমানা পাঁচিল দিচ্ছেন। তাদের বাড়ির পাশে আব্দুল খালেক নামের এক ব্যক্তির জমি রয়েছে। আব্দুল খালেক পাঁচিল তৈরীতে বাধা না দিলেও মনিরুলের ছেলেরা পাঁচিল নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছেন। শনিবার রাতে হঠাত করে রাসেল, হাকিম ও স্বপনসহ ৭/৮ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর আসবাবপত্র ও মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। ক্ষমতার প্রভাবে তারা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রাকিবুল। রাকিবুলের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রামের খালেক তার কাছ থেকে জমি কিনেছেন প্রায় বছর পাঁচেক আগে। ওই জমি খালেককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য উভয় পক্ষ আমিন এনে জমি মাপজোক করে পিলার পোতা হয়। রাকিবুল ওই পিলার তুলে মনিরুলের জমির মধ্য দিয়ে পাঁচিল নির্মাণ শুরু করেন। এ ব্যাপারে মনিরুলের ছেলে রাসেল নিষেধ করতে গেলে রাকিবুল ও তার লোকজন রাসেলকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। রাসেলের আহত হবার সংবাদে তার বোন রিয়া খাতুন গেলে তাকেও মারধর করা হয়। আহত রাসেলকে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। রিয়া খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। রাসেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে বলে জানান গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: তাসমেরি খাতুন। এ বিষয়ে গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, রাকিবুল ইসলামের ভাই নাসিম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে মনিরুল ইসলামের পক্ষে কেও কোন অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.