জীবননগরে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে ভেঙে পড়ছে সংসার : বিচার চান হাজেরা খাতুন

 

জীবননগর ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ধান্যখোলা গ্রামের গৃহবধূ মোছাম্মদ হাজেরা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে, প্রতারণা ও অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।ভুক্তভোগী হাজেরা খাতুন জানান, প্রায় ২১ বছর আগে মহেশপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. হাতেম আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যান হাতেম আলী। প্রথম দুই বছর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত এক বছর ধরে তিনি কোনো খোঁজখবর বা অর্থ সহায়তা দেননি। গত ৮ মার্চ হঠাৎ দেশে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছে অবস্থান নেন হাতেম। তবে তার আচরণে সন্দেহ হলে দুই দিন পর কাউকে কিছু না জানিয়ে আবার চলে যান। এরই মধ্যে ‘সাদিয়া’ নামের এক নারী হাজেরা খাতুনের মোবাইলে কল দিয়ে দাবি করেন, তিন বছর আগে তার সঙ্গে হাতেম আলীর বিয়ে হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি তার সঙ্গেই আছেন। এ ঘটনা জানার পর হাজেরা খাতুন স্বামীর পাসপোর্ট নিজের হেফাজতে রাখেন। পরে হাতেম আলী পাসপোর্ট ফেরত চাইলে তা না দেয়ায় তিনি জীবননগর থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় নেতা মোখলেসুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, তাদের দাম্পত্য জীবন আগের মতো চালিয়ে নেয়া হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের পর হাতেম আলী আবার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে চলে যান। বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে এই পরিবারের। দ্বিতীয় ছেলে মো. মুন্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবার পাঠানো অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় ছেলে হাসিবুল একটি ওয়াইফাই দোকানে কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছে। হাজেরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ‘সাদিয়া’ নামের ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ইমোর মাধ্যমে পরিচিত হন। পরবর্তীতে ওই নারী তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হলে ৬ লাখ টাকা দিতে হবে, অন্যথায় আইনি ঝামেলায় ফেলার হুমকি দেন। এদিকে, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর নির্যাতনের বিচার চাই। আমার মতো যেন আর কোনো নারীর জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More