জীবননগর ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকা-ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন উভয় পক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একইসঙ্গে উভয় পক্ষই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস মোল্লা। এসময় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছেলে মো. আবু হুরায়রা। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ২৬ মার্চ সকালে তাদের নার্সারির গোডাউনে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ বাবর আলীসহ কয়েকজন এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি পূরণ না করায় তারা এই অগ্নিকা- ঘটায়। এ ঘটনায় তিনি জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ বাবর আলী। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে জীবননগর শহরের থ্রি-স্টার হোটেলে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রুহুল কুদ্দুস মোল্লা ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। বাবর আলীর দাবি, অগ্নিকা-ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার সহযোগীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার কারণ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। জীবননগর ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
পূর্ববর্তী পোস্ট
পরবর্তী পোস্ট
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.