ঈদের আনন্দ সবার জন্য—এই বার্তাকে হৃদয়ে ধারণ করে আলমডাঙ্গায় এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী উৎসব
আলমডাঙ্গা অফিস:নতুন পোশাকের রঙিন ছোঁয়া আর মেহেদীর নকশায় সাজানো হাতে যেন ফুটে উঠলো তাদের বহুদিনের চাপা আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় আলমডাঙ্গা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই ফর অল’ ও ‘স্বপ্নঘর ফাউন্ডেশন’-র যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেয় শতাধিক শিশু। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
২০১১ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করে আসা সংগঠন দুটি এবারের ঈদেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে আসে। অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিশুকে দেওয়া হয় নতুন ঈদবস্ত্র মেহেদীর রঙিন পরশ। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়—তারা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়, যা তাদের উৎসবের আনন্দকে করে তোলে আরও গভীর ও ব্যক্তিগত।
শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজন। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নানা ধরনের ঈদ উপহার, যা তাদের চোখে এনে দেয় উচ্ছ্বাসের ঝিলিক।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মেহেদী উৎসব’। ছোট ছোট হাতে মেহেদীর নকশা আঁকতে আঁকতে শিশুরা মেতে ওঠে আনন্দে। তাদের হাসি আর উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো শহিদমিনার প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ‘উই ফর অল’-এর চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আফিয়া নূর ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, স্বপ্নঘর ফাউন্ডেশন আলমডাঙ্গা শাখার পরিচালক সাংবাদিক রহমান মুকুল, উই ফর অল’র কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রাজ্জাক রাজু, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খ. হামিদুর ইসলাম আজম, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম পিন্টু, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল আমিন পরশ ও সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতার একটি বহি:প্রকাশ। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রেখে তাদের জীবনে আনন্দের আলো ছড়িয়ে দিতে চান তারা।
ঈদের আগে এমন এক আয়োজন যেন প্রমাণ করে—সামান্য ভালোবাসা আর যত্নেই বদলে যেতে পারে একটি শিশুর পৃথিবী।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.