কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনের নির্বাচনী সমীকরণ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনের ত্রয়োদশ নির্বাচনী আসর জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট থেকে বের হওয়ার কারণে নির্বাচনী ডামা ডোলে এক নতুন মাত্র যোগ হয়েছে। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত কুষ্টিয়া এক দৌলতপুর আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী অপরপ্রার্থী ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে গেছেন। তবে তার সাথে রেজা আহমদ বাচ্চু মোল্লার কোন সমঝোতা হয়েছে কিনা জানা যায়নি। অন্যদিকে দশ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী হয়েছেন মুফতি বেলাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাখা মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন মুফতি আমিনুল ইসলাম। আসনে আরো তিনজন প্রার্থী রয়েছেন তারা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ বাংলাদেশী ইসলামী ঐক্য ফ্রন্টের বদিউজ্জামান এবং গণআধিকার পরিষদের শাহাবুল আলম। তবে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিত হবে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা এবং জামাত ইসলামের প্রার্থী মুফতি বেলাল হোসেনের মধ্যে। বিগত দিনের নির্বাচন পর্যালোচনায় দেখা যায় রেজা আহমেদ বাচ্চুর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে না আসতেন তাহলে এ আসনে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের একটা সম্ভাবনা ছিল। অন্যদিকে কুষ্টিয়া দুই মিরপুর ভেড়ামারা আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুর ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এ আসনটিও বিএনপি’র ঘাট হিসেবে খ্যাত
তবে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত ইসলামের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বিজয়ী হয়েছিল ।সে দিক দিয়ে এ আসনটি জামাত ইসলামের ও একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। আসনটিতে ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী । ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১দলীয় জোট থেকে বের হয়ে আসলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমর্থন থাকায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
এছাড়াও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চার বারের সাবেক এমপি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের সমঝোতা হওয়ার কারণে এখানে বিএনপি’র একটি শক্ত অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ আসনটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়াও এ আসনটিতে আহসানুল হক নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রয়েছেন। তবে তার প্রচার-
প্রচারণা তেমন দেখা যায়নি। জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন কুষ্টিয়া সদর ৩ আসন। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির সরকার। অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন দেশ বরণ্য বিশেষ বক্তা মুফতি আমির হামজা। তার অবস্থানটাও মোটামুটি শক্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওপর প্রার্থী অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বিএনপি’র পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় এ আসনটি তো ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এছাড় এ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছেন আহাম্মদ আলী ।তবে তার প্রচার প্রচারণা খুব একটা নজরে আসেনি। অন্যদিকে কুষ্টিয়া চার খোকসা কুমারখালী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেহেদী আহমেদ রুমি এবং ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী রয়েছেন জামাত ইসলামের আফজাল হোসেন। তবে এ আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ধনকুবের আনোয়ার খান রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। এ আসনটিতে যদি ১১ দলই ঐক্যজোট অটুট থাকতো তাহলে আড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের একটা সম্ভাবনা ছিল। তবে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনে মাঠে র এ সমীকরণের তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More