খাল খনন উদ্বোধন করতে আগামীকাল চুয়াডাঙ্গায় আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী

রহমান মুকুল: গ্রামের ভাঙা পথ পেরিয়ে, শুকনো খালের বুক ছুঁয়ে যেন এক অদৃশ্য প্রস্তুতির আগাম প্রস্তুতি ছড়িয়ে পড়ছে বেলগাছির ইছেরদাড়ী খালপাড়ে। বহুদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে আসছেন একজন মন্ত্রী আর সেই আগমনের প্রতীক্ষায় যেন নতুন করে জেগে উঠছে একটি মৃতপ্রায় খাল। আগামীকাল ১১ এপ্রিল শনিবার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার এই আগমনকে ঘিরে এখন পুরো এলাকায় বইছে এক ধরনের নীরব উত্তেজনা—একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখার আকাঙ্ক্ষা। মন্ত্রী আসছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যেতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। যে খাল এতদিন ছিল আগাছা আর মাটির স্তূপে ঢাকা, সেই খালের পাড়ে এখন মানুষের চোখে স্বপ্নের রেখা। কেউ বলছে, “এবার হয়তো পানি আসবে। ফারাক্কার অভিশাপের মরুময়তা ঘুচে যাবে।”, কেউবা নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে শুকনো তলদেশের দিকে-যেন সেখানে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির স্রোত কল্পনা করছে। এই আয়োজনের প্রস্তুতি দেখতে ইতোমধ্যে স্থান পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি খালপাড়ে দাঁড়িয়ে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন পরিকল্পনার রূপরেখা। তার সফরের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিও পেয়েছে নতুন গতি। ইছেরদাড়ীর এই খাল একসময় ছিল এলাকার প্রাণ। কৃষির আর কৃষকের প্রাণপ্রবাহ। বর্ষার পানি বইতো, কৃষকের জমি পেত সেচের স্বস্তি। এই খালের সরব প্রবাহ গিয়ে মিশতো ভাটুই নদীর স্রোতধারায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভরাট, দখল আর অবহেলায় হারিয়ে যায় সেই প্রবাহ। খাল শুকিয়েছে, আর তার সঙ্গে শুকিয়েছে মানুষের সমূহ স্বপ্ন আর আশাও। এখন সেই খালের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন সম্ভাবনা—একটি উদ্বোধন, একটি প্রতিশ্রুতি, একটি সরকারি উপস্থিতি। সরকারের আন্তরিকতা। মন্ত্রীর আগমন যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলে। খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রীকে বরণের নানা তোড়জোড়। প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। পুরো এলাকাজুড়ে যেন এক অদৃশ্য আয়োজন যেখানে কেন্দ্রবিন্দুতে একজন অতিথি, আর তার চারপাশে ঘুরছে একটি খালের ভবিষ্যৎ; এলাকার কৃষির সমৃদ্ধি। তবে প্রশ্নও আছে এই আগমন কি শুধু এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই বদলে দেবে ইছেরদাড়ীর জনপদের ভাগ্য? কারণ এই অঞ্চলের মানুষ জানে, অনেক প্রতিশ্রুতি আসে, কিন্তু সবগুলোই স্রোতে রূপ নেয় না, বাস্তব হয়ে ধরা দেয় না। তবুও, অপেক্ষা থেমে নেই। ১১ এপ্রিলের দিকে তাকিয়ে আছে আলমডাঙ্গা, বেলগাছি, একজন মন্ত্রীর আগমন আর একটি খালের পুনর্জন্মের অপার সম্ভাবনা নিয়ে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More