চুয়াডাঙ্গায় নদী বাঁচাও মানুষ বাঁচাও এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মানববন্ধ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার:গতকাল সকাল ১০টার দিকে শহীদ হাসান চত্তর উন্নক্ত মঞ্চে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন ও ধরিত্রি রক্ষায় আমরা (ধারা) আয়োজনে আলোচনা সভা শেষে মাথাভাঙ্গা নদীর উপর ব্রীজে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস। এতে সভাপতিত্বে করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ বিল্লাল হোসেন। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি, সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লিটু বিশ্বাস, সাহিত্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক শেখ সেলিম, সিনিয়র সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন, উদীচীর সভাপতি জহীর রায়হান হাবিবী, ব্র্যাক এর জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান, অন্মেষা যুব নারী কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিজা হুসাইন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রবিন হিতসী সংঘের সাধারন সম্পাদকেআবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরিফুর রহমান। সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান, মহিবুল হাবীব, হামিদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধ ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী দেশে একসময় প্রায় ১২০০–১৩০০টির বেশি নদী প্রবাহিত ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ, অবৈধ ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বর্তমানে অনেক নদী সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে এবং বেশ কিছু নদী ইতোমধ্যে মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। দেশের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের জীবিকা ও কৃষি কার্যক্রম নদী ও পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ এবং নগর বর্জ্য নদীতে ফেলার ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে, মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই নদী রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনারা বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষা মানেই মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই দেশের সব নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.