চুয়াডাঙ্গায় ‘নো কার্ড নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভোগান্তি

মানা হচ্ছে না নির্দেশনা : যাচাই ছাড়াই দেয়া হচ্ছে জ্বালানি তেল

স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের সংকট ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে মাঠপর্যায়ে এ নির্দেশনা কার্যত মানা হচ্ছে না। তেল পাম্পগুলোতে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অধিকাংশ গ্রাহকই ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যত্যয় ঘটছে। সূত্রে জানা গেছে, ৩ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও, কোনো পাম্পে ট্যাগ অফিসার নেই। নিয়ম-কানুন না মেনেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ। সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ২২টি তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও বিভিন্ন পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত ৩টা থেকে লাইনে অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করছে। আবার, জেলার কৃষকরা ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, কালোবাজারি রোধ এবং অতিরিক্ত মজুত বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকের পূর্বে নেয়া তেলের পরিমাণ ও তারিখ উল্লেখ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফুয়েল কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
তবে ফুয়েল কার্ডধারী মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ড সংগ্রহে তাদের সময় ও শ্রম ব্যয় হলেও বাস্তবে সেই নিয়ম কার্যকর না হওয়ায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। কার্ড ছাড়াই অনেকেই সহজে তেল পাচ্ছেন, ফলে নিয়ম মেনে কার্ড নেয়া ব্যক্তিরাই পড়েছেন ভোগান্তিতে। মোটরসাইকেল চালক তানভির রহমান বলেন, ‘ভোরবেলা এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দু’ঘণ্টা পর পেলাম ৫০০ টাকার অকটেন। তেল নিতে গিয়ে পাম্পে কোনো ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থাপনা দেখলাম না। প্রায় সবাই ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নিচ্ছে।’ রুহুল আমিন নামে একজন গাড়িচালক বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেল পেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন আর পাম্পের চেনাজানা মানুষ এদিক-ওইদিক থেকে ঢুকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আর যারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তারা তেল পাচ্ছে না। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করলাম। ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার তো দেখলাম না।’ এদিকে, সকাল ৭টা থেকে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক পাম্পে আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল তৈরি করে রাখছেন চালকরা, যা বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান জানান, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পেট্রলপাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফুয়েল কার্ডে উল্লেখ রয়েছে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন; যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায় থেকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More