ষ্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলায় দিগড়ী এলাকার এক শিশু চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম মারিয়া খাতুন (১২)। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী ইসলামপুর এলাকার মোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ জানুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কুয়াশার মধ্যে একটি অটোরিকশা ও পাখিভ্যানের সংঘর্ষে মারিয়া গুরুতর আহত হয়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিল।
শিশুটির দাদা ইউসুফ আলী জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আঘাতের প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেননি। দীর্ঘ তিন দিন ধরে মারিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ সময় তার পায়ের অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় ড্রেসিং ও প্রাথমিক চিকিৎসা যথাযথভাবে করা হয়নি।
তিন দিন পর চিকিৎসকরা বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে ৯ জানুয়ারি মারিয়াকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রোগীকে অনেক দেরিতে আনা হয়েছে। সংক্রমণ ও রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিশুটির জীবন বাঁচাতে ১৩ জানুয়ারি হাঁটুর ওপর থেকে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মারিয়ার স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে সিভিল সার্জনের বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমানের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের চেয়ে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখায় বেশি মনোযোগী। সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের প্রতি তার অবহেলাই আজ একটি শিশুর পঙ্গুত্বের কারণ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান বলেন, মারিয়ার ক্ষেত্রে ‘ওপেন ফ্র্যাকচার টিবিয়া-ফিবুলা’ শনাক্ত করা হয়েছিল। তৃতীয় দিনে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অপারেশন করা হয়নি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে মারিয়া ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.