স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা হাইওয়ে সড়কের মিলপাড়া এলাকায় রাস্তার দুই পাশে প্রশস্তকরণ কাজে বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ কাজে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মধ্যে অধিক পরিমাণ মাটির উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া খোয়া হিসেবে ব্যবহৃত ইটের টুকরোগুলোতেও নির্ধারিত মান ও মাপ অনুসরণ করা হয়নি। জানা গেছে, যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মইনুদ্দিন প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়কের এই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পাশ প্রশস্ত করার কথা। কিন্তু ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে মহিউদ্দিনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আলামিন বলেন, আমরা কোন অনিয়ম করছি না। এখানে সড়ক পরিবহনের ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ও সুপারভাইজার উপস্থিত থেকেই এই বালি ও খোয়া মিশ্রণ করে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ) বিভাগের চুয়াডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দেখতে মাটির মতো মনে হলেও এগুলো বালুই। কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টেও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর প্রমাণপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। খোয়ার মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে কোনো দুই নম্বর বা তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে কিছু পুরাতন ইটের খোয়া থাকতে পারে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সুপারভাইজার শাহীনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। যাতে করে জনসাধারণের টাকায় নির্মিত সড়কের মান নিশ্চিত করা যায়।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.