স্টাফ রিপোর্টার:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার ২টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের ৪ প্রার্থীর হলফনামা। হলফনামায় জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর সম্পদের পরিমাণ ৮৩ কোটি, সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের ৯৮ লাখ, জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিনের ৮৫ লাখ ও সহকারী সেক্রেটারী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেলের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমই সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতির দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে হলফনামা অনুযায়ী জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া তার স্থায়ী ঠিকানা। বর্তমান ঠিকানা রোড নং-৪৭, গুলশান-২, ঢাকা। বাবু খানের পিতার নাম সোলেমান খান, মাতা- মাহমুদা খানম ও স্ত্রী নার্গিস আক্তার। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক মাহমুদ হাসান খান বাবুর জন্ম ৩১ অক্টোবর ১৯৬৬ সাল। স্নাতক (সন্মান) পাশ এ রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী ২০২৫-২০২৬ সালে আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৬ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ কোটি ২০ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। চলতি বছর আয়কর দিয়েছেন ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৬৭৩ টাকা। তার স্ত্রী নার্গিসের নামে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৩ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৫ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৯ টাকা। এছাড়া সন্তান ফারদিন মাহমুদ খানের নামে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা ও মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ টাকা। আয়কর দিয়েছে ৫০ হাজার ৬৬০ টাকা।
এছাড়া বাবু খানের কাছে নগদ টাকা আছে ৪ লাখ ১ হাজার ৬৪৫ টাকা। তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১১ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার ৩২৩ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬২ টাকা আছে বলে হলফ নামায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও স্ত্রীর নামে ৫০ ভরি স্বর্ণ গচ্ছিত রয়েছে। দাখিল করা হলফনামায় দেখা গেছে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ও আসবাপত্র মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। হলফনামায় তার পেশা উল্লেখ করা হয়েছে সম্মানী আয়, ভাড়া হতে আয় ও ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় শরীফুজ্জামান শরীফের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। তার পিতার নাম মোঃ শামসুজ্জোহা, মাতাঃ সাহিদা বেগম ও স্ত্রী কাজী মুসারবাত তানজিলা। ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি। ২৫ জানুয়ারী ১৯৭৩ সালে জন্ম নেয়া শরীফের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাশ। শরীফুজ্জামান পেশায় একজন ব্যবসাদার। তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৪ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ১৫ হাজার ৩৪৪ টাকা।
শরীফের স্ত্রী কাজী মুসারবাত তানজিলা গৃহিণী। স্ত্রীর নামে ব্যাংক হিসাবে বছরে লাভ দেখানো হয়েছে ২৭ হাজার ৩৭২। স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৫ টাকা। স্ত্রী মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮ লাখ ৪ হাজার ৫৫৯ টাকা। আর নিজের নামে রয়েছে তার ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৩ টাকা। শরীফুজ্জামানের নামে তিনটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্টে মোট টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ১১০ টাকা। হলফনামায় আরো উল্লেখ করেছেন, তার নিজের নামে ১০ ভরি স্বর্ণ গচ্ছিত আছে। যা তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪৩ ভরি স্বর্ণ। সেটিও উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফ্লাট বুকিং বাবদ অগ্রিম প্রদান করেছেন ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭১ টাকা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। হলফনামায় রাসেলের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের ছত্রপাড়ায়। তার পিতার নাম খাইরুল ইসলাম, মাতা পারুলা ও স্ত্রী ওয়াহিদা পারভীন। রাসেলের শিক্ষাগত এল.এল.এম। পেশায় তিনি আইনজীবী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। আইন পরামর্শক, চিকিৎসা ও শিক্ষকতা থেকে বছরে হলফনামায় আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে স্ত্রী ওয়াহিদা পারভীনের নামে বছরে আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৫৮টাকা।
রাসেল তার সম্পদের অর্থ নগদে দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ টাকা। ব্যাংকে দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৯ টাকা। রাসেলের স্ত্রীর নামে ব্যাংকে মাসিক ডিপিএস আছে ৫ হাজার টাকা। তার নামে ৫ ভরি স্বর্ণ গচ্ছিত আছে ও তার স্ত্রীর নামে স্বর্ণ আছে ১০ ভরি। ১৯৮৫ সালে ১০ জুন জন্ম নেয়া এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ২ সন্তানের জনক।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন। পেশা হিসাবে হলফনামা উল্লেখ করা হয়েছে রুহুল আমিন একজন আয়কর আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। জীবননগর উপজেলার ধোপাখালি মন্ডল পাড়ায় তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। তার পিতার নাম আব্দুল খালেক, মাতার নাম বুলবুলি খাতুন ও স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। ৪ জানুয়ারী ১৯৮০ সালে জন্ম নেয়া এ রাজনৈতিক নেতা ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। ২০২৫-২০২৬ সালে আয়কর রির্টানে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৭৪ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৫১ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৪০ হাজার ৩১১টাকা। রুহুল আমিনের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন পেশায় শিক্ষক। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও আয়কর দিয়েছেন ৪ হাজার ৩৮০ টাকা।
রুহুল আমীনের কাছে নগদ টাকা আছে ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫১ টাকা। তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। রুহুল আমিনের নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ ও স্ত্রীর নামে ৩০ ভরি স্বর্ণ গচ্ছিত রয়েছে। রুহুল আমীন বর্তমান ও অর্জনকালীন মোট সম্পদের মূল্য ৫৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৫১ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫০ টাকা। হলফনামায় ইলেক্ট্রনিক পণ্য ও আসবাপত্র মূল্য হলফানামায় উল্লেখ করেননি। স্বামী-স্ত্রীর নামে কোনো দায়-দেনা নেই। রুহুল আমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ পাস।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.