স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দিগড়ি গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের কন্যা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোছাঃ মারিয়া খাতুন গত ৫ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জানুয়ারি চিকিৎসা প্রদান শেষে পরদিন ৯ জানুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীতে না নিয়ে মারিয়াকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় মারিয়ার ডান পায়ের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পা কেটে না ফেললে জটিলতা বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়।
শিশুটির জীবন বাঁচানোর তাগিদে পরিবারের সম্মতিতে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অপারেশনের মাধ্যমে মারিয়ার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়।
বক্তারা আরো বলেন পরবর্তীতে আমরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে ওই ডাক্তারের কাছে আমরা জানতে চাই এবং কেন তারা ভুল চিকিৎসা দিল এ বিষয়ে জানতে চাই তা ছাড়া আমরা কোন ধরনের হুমকি ধামকি কোন কিছুই দেইনি আমরা ন্যায্য বিচার চাই ।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মারিয়ার পরিবার অভিযোগ করে জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটি পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ আমজাদ হোসেন, তরিকুল ইসলাম বিল্লু, শাহিন আলম, অনু, মিলুসহ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মানববন্ধনে আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০ জন সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.