মহেশপুরে শিশুর গলা কেটে হত্যার অচেষ্টা: চুয়াডাঙ্গায় সফল অস্ত্রোপচারে প্রাণে বাঁচল শিশুর

মহেশপুরে শিশুর গলা কেটে হত্যার অচেষ্টা: চুয়াডাঙ্গায় সফল অস্ত্রোপচারে প্রাণে বাঁচল শিশুর​স্টাফ রিপোর্টার:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাত্র ১ মাস বয়সী এক শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন মামার বিরুদ্ধে। আজ (১২ এপ্রিল) সকাল ০৯টা-এর দিকে মহেশপুর উপজেলার গুরদাহ পশ্চিমপাড়া গ্রামে শিশুটির নানাবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
​আহত শিশুর নাম আরাফাত (১ মাস)। সে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাথিলা দত্তনগর গ্রামের রকিবুলের ছেলে।
​ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু আরাফাত ও তার মা আঁখি তারা (১৭) মহেশপুর উপজেলার গুরদাহ পশ্চিমপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আজ সকাল ০৯:০০ AM-এর দিকে আঁখি তারা শিশু আরাফাতকে ঘরে রেখে ওয়াশরুমে যান। সে সময় ঘরে তার বড় ভাই আকাশ (১৯) অবস্থান করছিলেন। কিছুক্ষণ পর আঁখি তারা ঘরে ফিরে এসে দেখেন আরাফাতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত এবং সে রক্তাপ্লুত অবস্থায় ছটফট করছে। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
​চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা:
জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা আঘাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে শিশুটিকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সকাল ১১:৪৫ AM-এর দিকে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তন্ময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
​ডা. তন্ময়ের নেতৃত্বে দ্রুত এবং সফলভাবে শিশুটির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিশুটির গলার প্রধান রক্তনালী (শিরা) না কাটায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে। বর্তমানে শিশুটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র:
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির আপন মামা আকাশ এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কেন এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, কারো সাথে তাদের কোনো পূর্ব শত্রুতা ছিল না। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More