চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বরণের প্রস্তুতিসভা
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভায় জানানো হয়, বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নববর্ষ উপহার দেয়ার আহ্বান জানান। সভায় সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। সভায় আরও জানানো হয়, জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার চাঁদমারী মাঠ (ভি.জে স্কুল মাঠ) থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি চুয়াডাঙ্গা কোর্টমোড় হয়ে হাসান চত্বর হয়ে কবরী রোড ঘুরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মাঠে গিয়ে শেষ হবে। পরে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরে চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমিতে ৩দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে। পহেলা বৈশাখের দিন শিশু পরিবারসহ জেলা কারাগারে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন করা হবে। বৈশাখী মেলা উপলক্ষ্যে কোথাও কোনো জুয়া বা এ ধরনের কোনো খেলার আসর বসানো যাবে না। এ সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। আমরা পহেলা বৈশাখের দিন সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করবো। শোভাযাত্রায় সকলে নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে আসবে। যার সাজ সব থেকে সুন্দর হবে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনো অশ্লীল নৃত্য বা অসংগতিপূর্ণ কিছু না ঘটে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষার্থে পহেলা বৈশাখটা আমরা উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপন করবো। চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ পহেলা বৈশাখ। এ দিনটি চুয়াডাঙ্গা শহরে উৎসবমুখরভাবে উদযাপিত হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে কোনরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য জেলা পুলিশ সর্বদা সক্রিয় অবস্থানে থাকবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, সরকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, শ্রমিক দল নেতা এম জেনারেল ইসলাম এবং পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আয়েশা আক্তার রিক্তা, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.