হরিণাকু-ুতে কৃষকদল নেতা নিহত : মামলা : বিএনপির বিক্ষোভ : জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের নেতা নিহতের ঘটনায় হরিণাকু-ু উপজেলা বিএনপি উদ্যোগে হরিণাকু-ুতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন কাসেম হত্যা সাথে জড়িত জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

এদিকে কাশেমের মৃত্যুর খবর শুনার সাথে সাথে বুধবার রাতেই জামায়াতের নেতা কর্মীদের দুইটি দোকানসহ অন্তত ০৮/ ১০টি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।

এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন বলেন বুধবার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মন্তব্য কে কেন্দ্র করে জামায়াত এবং বিএনপির কর্মীদের মধ্যে বাকবিত-া তৈরি হয় এক পর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা জামায়াতের কর্মীদের গায়ে হাত দিলে তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার মধ্যে আবুল কাশেম দুর থেকে দড়িয়ে এসে এই ঘটনা ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপতালে আনার পথে ষ্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করে। তার গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এই মৃত্যুতে জামায়াত শোক প্রকাশ করেছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের ৮ নেতা কর্মীর বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।

এতে কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ তার বড় ভাই মোশাররফ হোসেন, নায়েব আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিয়ার রহমান লিটন ও মাজিজ মন্ডলসহ অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে জামায়াত নেতা মোস্তফা, মিটুল, আজিজ ও মতিয়ার রহমানের বাড়ি, দোকান ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে রাতেই ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

মতিয়ার রহমান লিটন নামে এক জামায়াত সমর্থক দাবি করেন, বুধবার সংঘর্ষ নিহত হবার পর রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ তিনি সংঘর্ষের সময় বাড়িতে ছিলেন না, কিছুই জানেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের ছেলে মেহেদি হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১৩ জনকে আসামি করে হরিণাকু-ু থানায় হত্যা মামলা দিয়েছে। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসের কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে নিহত কৃষকদল নেতা ও তার চাচা নাজের আলী, বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সাথে জামায়াত নেতা রিমন হোসেন ও আব্দুল আজিজের মধ্যে বাকবিত-া হয়।

এ নিয়ে বুধবার রাতে ফের তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয় এবং এক পর্যায়ে একটি চায়ের দোকানে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী এনামুল হক জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আবুল কাসেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

বাহারন নামে ওই গ্রামের এক নারী জানান, কাসেমকে কেউ মারেনি লোকজনের মারামারি দেখে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে পরে হার্ট এ্যটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় তাদের বাড়িতে হামলা করে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বিএনপির লোকজন।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বিটু জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবুল কাশেমকে জামায়াত সমর্থিত লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেণ। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে পরিবারটি বিএনপি জামায়াতে বিভক্ত। রাতে এ ঘটনার জেরে অনেকের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ফ্যাসিস্ট আ’লীগকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। এটা ভালো লক্ষন নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না। তিনি এ হত্যার বিচার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে হরিণাকু-ু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, নিহতের ছেলে বাদি হয়ে ১৪জনের নামে মামলা করেছে। রাতেই কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও টহলে ছিল। একটা রান্নাঘরে সামান্য একটু আগুন দিয়েছে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩.৩০ ঘটিকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More