স্টাফ রিপোর্টার: সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এটিকে আইনে রূপ দিতে গতকাল জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এই বিল পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাই বলবৎ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তারা তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। এটা পুরো পড়তে পারেননি। এটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আইনটি পাসের জন্য তাদের আরেকটু সময় দেয়া হোক। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই। জবাবে বিরোধী দলের নেতা বলেন, দুঃখজনকভাবে শিটটা তো পেয়েছেন এইমাত্র। তখন স্পিকার বলেন, বিষয়টি হয়তো পরে দেখবেন, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাস করার প্রস্তাব করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসীবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, তারা এবং এনসিপি’র বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনটাও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। এই বিলটি ছাড়াও গতকাল ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন-২০২৬’ ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়। বিকেলে দ্বিতীয় দফায় পাস হওয়া বিলগুলো হচ্ছে-বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬,’ ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬,’ ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (এমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রীর পাশে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদে জামায়াত এমপি’র প্রশ্ন: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সংসদ বেশ কিছুদিন ধরে প্রাণবন্তভাবে চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ধারা এবং কার্যপ্রণালি বিধি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু গত দু’দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নির্ধারিত আসন ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে গিয়ে বসেছেন। তিনি এক লাফে সর্বোচ্চ আসনের পাশে চলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে কোনো বিশেষ ছাড় দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন রেখে মুজিবুর রহমান আরও বলেন, যদি কোনো বিশেষ ছাড় দেয়া না হয়ে থাকে, তবে সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী আসন বিন্যাস সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উত্তরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, সংসদে আসন পরিবর্তন হতেই পারে। কে কোথায় বসবেন তা সংসদ নেতার ইচ্ছার ওপরও নির্ভর করে। এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় হতে পারে না।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.