মেগা প্রজেক্ট নয় গ্রামের উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার
মেহেরপুরে ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী
মেহেরপুর প্রতিনিধি: পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশাল ও ব্যয়বহুল মেগা প্রজেক্টের পেছনে না ছুটে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা-আমরা বড় প্রজেক্টের নামে অর্থ অপচয় করব না। আমাদের অগ্রাধিকার হলো গ্রামের উন্নয়ন, কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং তৃণমূলের অর্থনৈতিক বিপ্লব। আর এই লক্ষ্য অর্জনে খাল খনন কর্মসূচিই হবে আমাদের প্রধান হাতিয়ার।’ গতকাল শনিবার বিকেলে মেহেরপুর সদর উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামের কাজলা নদীর সংযোগস্থলে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ জিয়ার স্মৃতি ও বর্তমান পরিকল্পনা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ জিয়া নিজে কোদাল হাতে নিয়ে এই খালটি খনন করেছিলেন। তার সেই দূরদর্শী উদ্যোগের কারণেই দেশ একসময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল এবং উদ্বৃত্ত খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করতে পেরেছিল। সেই সময় হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছিল। আমরা সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে চাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জিয়া খালটি ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল। আজ পুনঃখননের মাধ্যমে আমরা কেবল একটি খাল উদ্ধার করছি না, বরং এলাকার কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছি। খালের পাড়ে ব্যাপক হারে গাছ লাগানো হবে, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা অনেক লড়াই করেছি, কিন্তু মেহেরপুরবাসীর সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। যেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং আপনাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটবে, সেদিনই আমাদের এই দীর্ঘ লড়াই সফল হবে।’ তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মেহেরপুরের কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতে সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন, মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাইম কামাল খান। উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। উল্লেখ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৫ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে আসন্ন মরসুমে সেচ সুবিধার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.