মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নগদ ২৫শ’ টাকা সহায়তা কর্মসূচির উদ্ধোধনকালে প্রধামন্ত্রী

 

কিঞ্চিৎ পরিমাণ দিলেও যেনো দিতে পারি : কেউ যেন বঞ্চিত না হয়

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ, অর্থকষ্ট উল্লেখ করে বলেছেন, ‘প্রতিটা জায়গায় মানুষের কষ্টটা দূর করাটাই লক্ষ্য। সেটাই চাই। এত বেশি মানুষ, হয়তো অনেক বেশি দিতে পারবো না। কিন্তু, কিঞ্চিৎ পরিমাণ দিলেও যেনো দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেককে আড়াই হাজার করে টাকা নগদ অর্থ প্রদান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে এই ঘোষণা দেন। করোনা পরিস্থিতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের একটা দায়িত্ব আছে, আমি ইতিমধ্যে একটা তালিকা করতে বলে দিয়েছি, সকল মসজিদে ঈদ-রমজান উপলক্ষে আমি কিছু আর্থিক সহায়তা দেব, সেই তালিকাটাও আমরা করে দিচ্ছি।’ দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও সাত হাজার কওমি মাদ্রাসাকে ঈদের আগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও সাত হাজার কওমি মাদরাসাকে ঈদের আগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সেই পদক্ষেপও আমি নিয়েছি।’ প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন কওমি মাদরাাসায় সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক মাদরাসা রয়েছে, যেখানে এতিমখানা আছে, তারা খুব একটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮৬৫টি কওমি মাদরাসায়, যেখানে এতিমখানা আছে, সেখানে আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়েছি।’ এ খাতে সরকারের প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন মাদরাসায় কতজন এতিম আছে, আমরা হিসাব নিয়েছি, সে হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক মাদরাসায় আমরা টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় যারা এতিম-অসহায় যারাই আছে, কোনো শ্রেণিই যেনো অবহেলিত না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি’, যোগ করেন তিনি। ধান কাটায় কৃষকদের সাহায্য করায় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগ নেতারা ধান কাটায় সাহায্য করায় আজ সারা বাংলাদেশের কৃষকের গোলাভরা ধান। শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। আল্লাহর রহমতে, অন্তত খাদ্যের কষ্ট হবে না। সেটা আমরা ব্যবস্থা করতে পারব। কিছু নগদ সাহায্য দেয়া একান্ত অপরিহার্য। আমরা সেটুকু ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, ‘সেই সঙ্গে যারা এখন বেকার আছেন, তারা কিছু কিছু কাজ করতে পারেন। যেখানে জমিজমা আছে একটা কিছু চাষাবাদ করা, একটু কাজ করা। নিজেও উদ্যোক্তা হয়ে একটু কাজ করেন। নিজে আর্থিকভাবে যেমন আপনারা দাঁড়াতে পারেন বিভিন্ন কাজ করে (এসব কাজ) দেশেরও সহায়তা হতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফসল তোলার সময় আমাদের যে সমস্যাটা ছিলো, যোগাযোগ ব্যবস্থাটা বন্ধ। তারপর আমরা যখন উদ্যোগ নিলাম, আমাদের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ ি নিলো। কিন্তু সেখানেও লোকবলের অভাব ছিলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রথমে আমাদের ছাত্রলীগকে আহ্বান জানালাম। যে যেখানে আছে, তাদের নিজের এলাকা-সব জায়গায় তাদের নামতে হবে এবং ধান কাটায় কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে ধান থেকে চাল হয়। আর এ চাল থেকে কিন্তু ভাত হয়। আমাদের মূল খাদ্য। কাজেই সেই কাজ করতে লজ্জার কিছু নেই, তা গর্বের বিষয়। আমরা যেটা খেয়ে জীবন বাঁচাই, সেই জায়গায় শ্রম দেব না, এই দৈন্যতা যেনো কারও মনে না থাকে,’ যোগ করেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ‘এন-৯৫’ সম্পর্কেও কথা বলেন এবং এটি সাধারণের জন্য নয় বরং করোনা রোগীকে যারা সেবা প্রদান করবেন, তাদের পরিধানের জন্যই দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ঘরে সংক্রমণমুক্ত পরিবেশে থাকলে তিনি মুখের পরিধেয় মাস্ক খুলে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া লোকজন এবং বিদেশফেরত জনগণ যাতে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকে ২ হাজার কোটি এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে ৫০০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে দেবে সরকার। একই অনুষ্ঠান থেকে তিনি অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমের ও উদ্বোধন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ প্রদান বৃদ্ধি করার জন্য আরও দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ আমানত দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যুবক শ্রেণিকে যাতে বেকার হয়ে ঘুরে না বেড়াতে হয়, সে জন্য সেখান থেকে তারা ঋণ নিতে পারবে। নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যারা প্রবাসী, তারা রেমিট্যান্স পাঠায়। তাদের যেনো ঘরবাড়ি বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে না হয়, তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ নামে আরেকটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেই ব্যাংকেও আমরা আরও টাকা দেবো। সেখানে আমরা অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা দেব। এর আগে ওখানে আমরা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, এখন প্রবাসে কাজের পরিধি সীমিত হয়ে গেছে। সেখানেও বহু মানুষ কাজ হারাচ্ছে এবং অনেকে দেশে ফিরে আসছে। তারা আমার দেশের নাগরিক। তারা ওখানে কষ্ট করুক, সেটা আমি চাই না। তারা ফিরে আসলে ফিরে আসবে। কিন্তু এখানে এসে তারা যেনো কাজ করে খেতে পারে, তাদের সেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাটা আমরা করে দিচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখন প্রথমবার সরকারে আসেন, তখন দেশের যুবসমাজের বেকারত্বের অভিশাপ দূর করার জন্যই এই কর্মসংস্থান ব্যাংক সৃষ্টি করেন। এ ব্যাংক থেকে শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক, যেকোনো যুবক বা তরুণ-তরুণী কোনো জামানত ছাড়াই স্বল্প সুদে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এই ঋণ নিয়ে তারা একা ব্যবসা করতে পারেন অথবা বন্ধুবান্ধব মিলে ব্যবসা করতে পারেন, যোগ করেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চলমান করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান করার উদ্বোধন করেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলায় নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রদান করছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজি আলী আজগার টগর। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।

মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে,  ভিডিও কনফারেন্সির মাধ্যমে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরই আলোকে মেহেরপুরে জেলা প্রশাসক মো আতাউল গনি মেহেরপুরে কয়েকজন কর্মহীন অসহায় পরিবারের হাতে টাকা দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, বগুড়া সেনানিবাসের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফকরুদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ খালেক প্রমুখ উপস্থিাত ছিলেন। এ কর্মসূচির আওতায় মেহেরপুর জেলায় মোট ৫০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে ২হাজার ৫শ’ টাকা করে প্রদান করা হবে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ২০ হাজার, গাংনী উপজেলায় ২২ হাজার এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৮ হাজার পরিবার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার তালিকায় আছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ও হকারসহ নিম্ন আয়ের নানা পেশার মানুষ। তালিকাভুক্তদের মধ্যে সরাসরি চলে যাবে এই টাকা, ফলে বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না তাদের। টাকা পাঠানোর খরচ সরকার বহন করবে। এই টাকা উত্তোলন করতে ভাতাভোগীদের কোনো খরচ দিতে হবে না।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More