কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চুয়াডাঙ্গা, পেটের তাগিদে ছুটছে মানুষ 

আনোয়ার হোসেন,শেখ রাকিব : দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল জেলা চুয়াডাঙ্গা কুয়াশার চাঁদরে মড়ানো, পেটের তাগিদে কর্মস্থলে ছুটছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। সূর্যের লুকোচুরি আর হিমেল ঠান্ডা বাতাস, জানান দিচ্ছে কনকনে শীত। তারপরও থেমে নেই মানুষের কর্মজীবন, ভোর রাত থেকেই শুরু হয় দিনমজুরীদের কাজের সন্ধান। চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখা যায় ওই দিনমজুরি মানুষ গুলোকে, চোখের চাউনি বলে দেয় কখন ডাকবে কাজের জন্য, আবার অনেকেরই বাড়ি ফিরতে হয় কাজ না পেয়ে। কনকনে ঠান্ডাতে রাত জেগে কাজ করেন রাত প্রহরী, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ পাহারা দিতে, ঠান্ডাও যেন হার মানে ওই মানুষটির কাছে। কনকনে শীতে যখন মানুষ লেপ তোষকের উষ্ণতার সাথে মিশে থাকে, ঠিক তখনো কিছু শ্রমিক কনকনে ঠান্ডা পানিতে মাছ ধরেন যাদেরকে আমরা চিনেথাকি জেলে হিসেবে, এদিকে ভোরে মোরগের ডাকের সাথে সাথে উঠে পড়ছেন এক ঝাঁক টগবগে যুবক ঠান্ডা, গরম, বৃষ্টি, কোন কিছুই যেন স্পর্শ করতে পারছে না তাদের। প্রতিদিনের গরম, গরম খবর পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে , যাদেরকে আমরা বলে থাকি হকার। কনকনে শীতে পাতলা চাঁদর গায়ে জড়িয়ে মধ্য বয়সী মানুষটা হাঁটছেন মাঠের দিকে, যাদেরকে আমরা বলি চাষী। শীত, গরম, ও বৃষ্টি কিংবা ঝড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগই থামাতে পারেন না এই শ্রেণীর মানুষগুলোকে, গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে জেলার প্রথম শ্রেণী আবহাওয়া অফিস, এমন ঠান্ডাতে মানুষসহ পশু পাখিরাও পড়েছে চরম বিপকে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় ঠান্ডা জনিত রোগে রোগীরা ভীড় করছেন হাসপাতালে , বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডা জনিত রোগে।

হুরমত আলী নামের একজন দিনমজুরের সাথে কথা বলে যানা যায়,তিনি বললেন শীতের সকালে পেটের তাগিদে ঘর থেকে বাহির মুখী হতে হয় তবে বাইরে বের হয়ে দেখী সূর্যের আলোর বদলে কুয়াশা চাঁদরে ঢাকা থাকে চুয়াডাঙ্গা এতে ঠিকমতো কাজকাম হয় না আগে তুলনায় অনেক আয় কমে গিয়েছে সারাদিনে যেখানে ভাড়া মারতাম ৫ থেকে ৭০০ টাকা সেখানে এখন ভাড়া হয় দুই থেকে তিনশ টাকা খুব কষ্টের ভিতর জীবন যাপন করছি সরকারি কোনো অনুদান বার্ষিক থেকে বাঁচার জন্য কম্বল এখনো পর্যন্ত পাইনি তবে আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষদের যদি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়,তাহলে আমাদের পক্ষে ভালো হয়,এদিকে হৃদয় হোসেন তারেক নামের এক চায়ের দোকানদার তিনি জানান ভোরে যখন দোকান খুলি তখন কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না অনেকটাই কষ্টের ভিতর বর্তমানে পড়তে হচ্ছে তবে আগের তুলনায় একটু বেচা কিনা বাড়তি হয়েছে, এদিকে কলেজ ছাত্র ওয়ালিদ হাসান সাজিম, যানান সকাল ০৬:০০ টায় যখন পড়তে যাই তখন অনেকটা কষ্ট হয় চুয়াডাঙ্গাতে অনেক শীত,সকালে যখন কোচিং এর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই তখন শীতে পা হাত পা আকাটা হয়ে যায়,এসময় কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায় শীতের সকালে কি হয়েছে মুখী যখন হই তখনই বুঝতে পারি শীতের কষ্ট কেমন ও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা কতই না কষ্ট পাচ্ছেন এই শীতে,এদিকে চুয়াডাঙ্গার ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলো ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গিয়েছে শীতের পোশাকের জন্য ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতন ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন তাদের বেঁচাকেনা আগের থেকেও অনেক টাই ভালো।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More