চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে ভারত পাচারের চেষ্টাকালে ৮ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানা পুলিশের অভিযানে ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জন দালালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোলায়মান শেখের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থান করতেন। প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ চক্রের সদস্য যশোর জেলার মনিরামপুর থানার রাজঘাট এলাকার শফি (৫০) এর মাধ্যমে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেন (২৮) এর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। দালালরা ভিকটিমদের ভারতে নিয়ে কার্টুন তৈরির ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এবং এ জন্য মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে দালালরা তাদের ভারতে পার না করে কৌশলে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এ সময় রাকিব মোল্লা নামে এক ভিকটিমকে মারধর করে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের দুই সদস্য ইসরাফিল (৩২) ও মো. উজ্জ্বল হোসেনকে (৪০) গ্রেফতার করে। উদ্ধার হওয়া ভিকটিমরা হলেন, রাকিব মোল্লা (৩৭), তার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), লিমন মোল্লা, সাথী খাতুন (২৫), রিহান মোল্লা, ফাতেমা খাতুন (১০), ফারিয়া খাতুন (২) ও ইসমাইল মোল্লা (১)। তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ বলেন, উদ্ধারকৃতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে । এ ঘটনায় জীবননগর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.