প্রাণবন্ত জীবননগর গঠনে যা করার দরকার সব করা হবে

জীবননগরে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়কালে বাবু খান

এম আর বাবু: বিজিএমইএ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর সাথে মতবিনিময় করেছেন জীবননগর উপজেলার সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ। গতকাল শনিবার রাতে শহরের তরফদার নিউ মার্কেটে এ মতবিনিসভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিমসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে আইন মানুষের জন্য কল্যাণকর না তেমন আইন আমাদের প্রয়োজন নেই। সব কিছু পরিবর্তন করতে হবে। আইনের জন্য মানুষ না, মানুষের জন্য আইন। আসন্ন নির্বাচন হচ্ছে আইন প্রণেতা নির্বাচিত করার নির্বাচন। একজন সংসদ সদস্যের কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকা।  আর স্থানীয় সরকারের কাজ হচ্ছে আইন বাস্তবায়ন করা। এক দিনে এ পরিবর্তন হবে। আমাদেরকে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সেনা প্রধান ও সচিব সকল চাকুরিজীবীদের একটি স্তর রয়েছে কিন্তু শিল্পপতি কিংবা ব্যবসায়ীদের কোনো স্তর নেই। বছরে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা ভ্যাট দিচ্ছে হাজার-হাজার টাকা কর দিচ্ছে কিন্তু ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী কোনো স্বীকৃতি নেই। ফলে একজন ইউএনওকে স্যার-স্যার করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা ওয়ারেন্ট প্রেসিডেন্সি করা হলে স্তর অনুযায়ী আমরা স্যার-স্যার করতে রাজি আছি। তিনি বলেন, সমাজে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে একটি ধারণা আছে। সেটি হচ্ছে ব্যবসায়ী মানে কর ও ভ্যাট ফাঁকি দেয়া, ব্যবসায়ী মানে ব্যাংকের টাকা নিয়ে মেরে দেয়া ইত্যাদি-ইত্যাদি। তিনি ব্যবসায়ীদের নামে থাকা এ বদনাম পরিবর্তনের আশা দেখেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী হলফনামা দিয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী কে কতো টাকা আয় করে, কার সম্পদ কতো এসব মিডিয়াতে এসেছে। কিন্তু কে কতো আয়কর দেয় এটা আসেনি। এটা আসা দরকার ছিলো। তিনি বলেন, পরিবারের যে ছেলে-মেয়ে দুষ্টু সেই রাজনীতিতে আসে বা করে। তার প্রতি পরিবারের একটু মায়াও থাকে। আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী-নেতা আমাদের সব থেকে বড় অবদান ৭১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বড় অবদান রয়েছে। তিনি সবার থেকে প্রতিনিধি নিয়ে জীবননগর বাজার কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমি যদি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি তাহলে স্বচ্ছতার সাথে জীবননগর বাজার কমিটি আপনারা করতে পারবেন। জীবননগরে একটি বাইপাস সড়ক করা প্ররেয়াজন। তিনি জীবননগরকে একটি প্রাণবন্ত জীবননগর গঠনে যা করার দরকার সব করা হবে প্রতিশ্রুতি দেন। আমাদেরকে দুর্নীতির ফ্রেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের অধিকাংশের জ্ঞানের গভীরতা কম থাকায় আমলাতান্ত্রিক জটিলটার সৃষ্টি হয়, আমলাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি বাবু খান বলেন, আমলাদের দ্বারায় আমরা উন্নয়ন করে থাকি। আমলাতান্ত্রীকতার ভালো দিক আমাদের কাজে লাগাতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেড নিয়ে সংসদে যাওয়ার পর জনগণের স্বার্থ আমাদের বেশি করে দেখতে হবে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, আপনার আমার দল ও আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, ধানের শীষে ভোট দেবেন বলেন সেøাগান দিয়েছেন এ জন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমার দল আমার নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি দেখতে চাই আপনি নির্বাচনটি সিরিয়াসলি ভাবে নিয়েছেন, সিরিয়াসভাবে করছেন। সিদ্ধান্ত দেয়ার মালিক আল্লাহ। সুতরাং আমার এই সিরিয়াসভাবে রাজনীতি বা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনাদের সকলের সহযোগিতা আমার কাম্য।  তিনি বলেন, একটি মানুষের দুটি বিষয়ে সম্মিলন ঘটলে তিনি ভাল কাজ করতে পারবেন। সাকসেসফুলি কাজ করতে পারবেন। সেটি হচ্ছে তার কাজের সদিচ্ছা ও কর্ম দক্ষতা। একটি হচ্ছে ‘ইন টেনশন এন্ড এবিলিটি’। আমার অনেক ভাল-ভাল কাজ করার এবিলিটি আছে কিন্তু আমার করার ক্ষমতা নাই, তাহলে কোন লাভ হবে না। আমার আমার ক্ষমতা আজে কিন্তু সদিচ্ছা নাই তাতেও কোন লাভ হবে না। এ দুটি সম্মিলন ঘটে এবং একজন নেতা বা কর্মীর সততা ও সদিচ্ছা তাকে তাহলে সব কিছু করা সম্ভব। এটা আমি দীর্ঘদিন ধরে করে থাকি। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করবেন এই আশা আমি করছি।

কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমাছ উদ্দিন ডাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বারের সভাপতি পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সরোয়ার বাবু ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজি নোয়াব আলী। এছাড়াও আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আব্দুল হামিদ, মৎস্য খামারী মালিকদের পক্ষ থেকে আলিফ উদ্দিন, বাজুসের সভাপতি হাজি আসাবুল হক, সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আব্দুর শুকুর, অটো মিল মালিক সমিতির পক্ষে বিল্লাল হোসেন ও রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাবেক পৌর কাউন্সিলর হযরত আলী। ওষুধ ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল কবীর তাপসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিমসভায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজি মশিয়ার মল্লিক, হাজি মোজাম্মেল হক খোকন, হাজি মোতালেব হোসেন, ওবাইদুর রহমান, মতিয়ার রহমান, আশরাফ উদ্দিন, খালিদ, হাসান, দ্বীন ইসলাম ও আক্তার প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More