বিশেষ প্রতিনিধি:মুহাম্মদ রবীউল আলম: বাংলাদেশের আঞ্চলিক সাংবাদিকতার ইতিহাসে যে ক’জন মানুষ নিরলস শ্রম, সাহস ও দায়বদ্ধতা দিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন, তাঁদের মধ্যে সরদার আল আমীন অন্যতম। আজ তাঁর শুভ জন্মদিন। শুভ হোক জন্মদিন!
সরদার আল আমীন শুধু একজন সাংবাদিক নন- তিনি একাধারে সমাজসেবক, সংগঠক, কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে দৈনিক মাথাভাঙ্গা আজ একটি বিশ্বাসযোগ্য ও জনপ্রিয় মুখপত্রে পরিণত হয়েছে।
১৯৭০ সালের ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৈলৎদিয়াড় গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। পিতা মোঃ ইদ্রিস আলী সরদার ও মাতা শিরিন সরদারের আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে গড়ে ওঠে দৃঢ় মনোবল ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। অল্প বয়সেই সংবাদপত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তাঁর হাতে গড়ে ওঠা দৈনিক মাথাভাঙ্গা ২০২৬ সালের ১০ জুন তিন যুগে পদার্পণ করবে—যা তাঁর সাংবাদিকতাপ্রেম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার এক অনন্য প্রমাণ। এই পত্রিকা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; বরং এটি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কথা বলার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও সরদার আল আমীনের অবদান উল্লেখযোগ্য। যৌথভাবে প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ভালবাসা গেছে এই পথে’ ও ‘দেখা হলে বলতাম’ পাঠকমহলে প্রশংসিত। তিনি ভালবাসা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী। তিনি চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও আমাদের গ্রন্থাগারের সভাপতির দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান তাঁর চিন্তা ও শ্রমে সমৃদ্ধ হয়েছে। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী লুনা শারমীন শশী এবং দুই সন্তান- বড় ছেলে সাদরিল আমীন শ্রেষ্ঠ ও ছোট ছেলে শীর্ষ—তাঁর অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক জিরো পয়েন্ট কর্তৃক প্রাপ্ত ‘জিরো পয়েন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাত থেকে প্রাপ্ত ‘শ্রেষ্ঠ সম্পাদক’ সম্মাননা তাঁর কর্মময় জীবনের উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
সাংবাদিকতা তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়—এটি সত্য প্রকাশ, গণমানুষের অধিকার রক্ষা ও সমাজ পরিবর্তনের এক মহান দায়িত্ব। সততা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনে সরদার আল আমীন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
তিনি তাই শুধু একজন সম্পাদক নন—তিনি আঞ্চলিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক, সমাজসেবক, কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। তাঁর কর্ম, কলম ও ব্যক্তিত্ব আগামী প্রজন্মকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করে চলে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.