যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো ইরান

 

স্টাফ রিপোর্টার: একমাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছিলো পাকিস্তান। তবে সেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ হামলার জন্য প্রস্তুতি এবং কৌশল নির্ধারণের জন্য সময় দেয়ার অভিযোগ করে যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে ‘চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অবসান’ চাইছে তেহরান। গতকাল সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং এর প্রতি ইরানের প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘অযৌক্তিক’ ও অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘ইরান পূর্বেই তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। সময়সীমা বেঁধে দেয়া বা যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিয়ে আলোচনায় বসা যায় না। এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে আলোচনা একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বাঘাই বলেন, ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অর্থ হলো একটি সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে শত্রু পক্ষ তাদের শক্তি পুনর্গঠন করে আবারো হামলা করতে পারে। কোনো সুস্থ ব্যক্তিই এমন পদক্ষেপ মেনে নেবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ প্রায়শই শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলা করার সময় আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তায় ইরানকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাওয়া প্রস্তাবগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করেছে এবং তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে  বিস্তারিত জানানি তিনি। এরআগে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি রূপরেখা তৈরি করে গতকাল (রোববার) রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করেছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। এই রূপরেখায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও একটি ব্যাপক চুক্তিসহ দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে এবং বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ দিনের সময় দেয়া হবে। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এ বিষয়ে দুপক্ষের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে ইসলামাবাদে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More