চুয়াডাঙ্গায় খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ

ভালাইপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় খোলাবাজারে বোতলে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল। গ্রাম থেকে শহরের হাটবাজারের মোড়ে মোড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফায়ার সার্ভিস বলছে, বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা না হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুর, খাদিমপুর, চিতলা মোড় সহ সকল জেলার প্রায় সকল গ্রামেই মুদি বা সার কিটনাশক সহ অন্যান্য যে কোন দোকানের সামনেই বোতলে সারি সারিভাবে রাখা পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন তেল। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যে কোনো ব্যক্তির কাছেই এই জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন।
একই চিত্র চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪টি উপজেলার অধিকাংশ গ্রামেই। অথচ জ্বালানি তেল বিক্রি করতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর, বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি অত্যাবশ্যক। পাশাপাশি পরিমাণে কম পাওয়া, ভেজাল আর দাম বেশিসহ নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ।
ক্রেতারা জানান, এসব দোকানে ভেজাল তেল সরবরাহ করার পাশাপাশি দাম বেশি রাখছে। এ ছাড়া এসব তেল গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর দাবি করে এ ধরনের অবৈধ তেল বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
মোটরসাইকেলচালক আরিফুর রহমান, আব্দুল মোমিন ও সামসুজ্জামান রিপোন বলেন, তেলের পাম্পে এক লিটার তেলের মূল্য থেকে খুচরা বাজারে সেই তেল ৭ থেকে ১০ টাকা লিটারেই বেশি। আবার পরিমাণে কমও দেয় দোকানিরা। এ ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন খুচরা দোকানিরা। তাদের দাবি, সংসার চালাতে অন্য ব্যবসায়ের পাশাপাশি বোতলে তেল ভরে বিক্রি করছেন তারা।
সচেতন নাগরিক হিসাবে জুহুরুল ইসলাম, মাসুদ রানা ও মিন্টু মিয়া বলেন, যানবাহন ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে তেলের পাম্প থেকে তেল বিক্রি বন্ধ করা গেলে, অচিরেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। তা না হলে আগামীতে চরম মূল্য দিতে হতে পারে জেলাবাসীকে। মূলত খুচরা দোকানিরা পাম্প থেকে তেল কিনে নিয়ে, বোতলজাত করে বেশি দামে বিক্রি করে। এটা এক ধরনের বড় প্রতারণা।
ভালাইপুর মোড়ের ডিজেল, অকটেন, পেট্রল বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন আমি সরকারের কাছ থেকে প্যাক পয়েন্টের অনুমোদন নিয়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল বিক্রি করি। এছাড়াও ভালাইপুর মোড় সহ আসেপাশে এলাকাতে অনেকেই বিক্রি করছেন। আমার জানামতে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২২ টি তেল পাম্প সহ ৪ টি প্যাক পয়েন্টের ডিজেল, অকটেন, পেট্রল বিক্রি করার অনুমোদন রয়েছে। বাকিরা কিভাবে বিক্রি করছেন সেটা আমার জানানেই। এটা প্রশাসনের দেখা উচিৎ।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ খালিদ হুসাইন বলেন সঠিক নিয়মনীতি না জানার ফলে খোলা বাজারে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ( জ্বালানী তৈল) বিক্রি করছে আমাদেরও চোখে পড়ছে, তবে কোন আইনে তাহারা খোলা বাজারে জ্বালানি তৈল বিক্রি করছে আমার জানানেই। এভাবে খোলা বাজারে জ্বালানী তৈল বিক্রিতে নাশকতার আশঙ্কা থাকে এবং পাশাপাশি রয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। এ জন্য প্রশাসনের আন্তরিকতা প্রয়োজন।
এদিকে সচেতন মহল জেলার উর্ধতন প্রশাসনের কাছে দাবি করেন, যেখানে সেখানে যত্রতত্র ভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ( জ্বালানী তৈল) বিক্রি বন্ধ বা আইনমেনে সহজলভ্য ভাবে লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে জ্বালানী তৈল বিক্রি সুযোগ সুষ্টি করার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More