প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন করেছে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, প্রশ্ন ফাঁস এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি শুধু মেধাবীদের সঙ্গে অবিচার নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ সময় চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো শিক্ষক নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে জনসমক্ষে আনা,নিয়োগ পরীক্ষায় কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন,সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা,প্রশ্ন ফাঁস রোধে দীর্ঘমেয়াদি কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন বলেন, একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে হয়। অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলে তা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। তিনি শিক্ষাখাতে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনা আমাদের লজ্জিত করেছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে কোনো প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি চক্রের ঠাঁই হতে পারে না। মেধাবীদের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা এখন মেধাবীদের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁস আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ছাত্রসমাজ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র তামান্না খাতুন বলেন, পরিবর্তিত সময়ের পরও যদি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে হয়, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। চুয়াডাঙ্গায় ডিভাইসসহ আটক হওয়া ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে আরও অনেক কিছু আড়ালে থেকে যাচ্ছে। মেধার সঙ্গে এমন অবিচার চলতে থাকলে এক সময় দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদর উপজেলা আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম নিরব বলেন, যেখানে মেধার অবমূল্যায়ন হয়, সেখানে সমাজ এগোতে পারে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নে মেধার বিকল্প নেই, আর মেধাবীরা বঞ্চিত হলে উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়।

মানববন্ধনে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More