চুয়াডাঙ্গার নেশাগ্রস্ত যুবকের কান্ড নিজঘরে আগুন – আগুন নিভাতে রেলগেটে আটকা পড়ল ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, এলাকাবাসীর সাহসিকতায় রক্ষা
স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় এক নেশাগ্রস্ত যুবকের দেওয়া আগুনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকাবাসী। তবে এই অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গা রেলগেটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রায় ১০ মিনিট আটকে থাকার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁতগাড়ি নতুনপাড়ার বাসিন্দা মৃত ঘটক আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৫) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজ ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং পরিবার থেকে আলাদা ওই বাড়িতে একাই বসবাস করত।
প্রত্যক্ষদর্শী রিফাত আহমেদ জানান, হঠাৎ ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। স্থানীয় বাসিন্দা আহাদ আলী ও লিপন আহমেদ জানান, তারা আগুন নেভাতে গেলে আব্দুল্লাহ উল্টো তাদের মারধর করতে আসে এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। তবে বাধার মুখেও স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালিয়ে আগুন ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন।
রেলগেটে বিড়ম্বনা
এদিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু পথে চুয়াডাঙ্গা রেলগেটে পৌঁছালে গেটম্যান প্রতিবন্ধক (ব্যারিয়ার) নামিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি সাইরেন বাজিয়ে জরুরি সিগন্যাল দিলেও প্রায় ৭ থেকে ১০ মিনিট গেট খোলা হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারেন্ট ইন্সপেক্টর খালিদ সাহিফ জানান “আমরা খবর পেয়েই দ্রুত রওনা হই। কিন্তু রেলগেটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়। গেটম্যানকে অনুরোধ করা হলেও তিনি জানান ট্রেন স্টেশনে ঢুকছে, তাই গেট খোলা সম্ভব নয়। এর মধ্যেই খবর আসে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন, তখন আমরা স্টেশনে ফিরে আসি।”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টেলিফোনের মাধ্যমে বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারত। জরুরি সেবার গাড়ি কেন রেলগেটে ১০ মিনিট আটকে থাকবে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে এবং জরুরি চলাচলের ক্ষেত্রে রেলগেটের অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.