চুয়াডাঙ্গার শাহাপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিকরা, থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ শাহাপুরে ফাহিম হোসেন (১৯) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেডিও চুয়াডাঙ্গা নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুর রহমান ও দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার মুন্না রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ফাহিম হোসেন গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ ঘরে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা শহরের এসএফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফাহিম তার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আত্মীয়স্বজনেরা ফাহিমকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। রাত ১২টার দিকে ফাহিম নিজের ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, ফাহিম একটি চেয়ারের ওপর বসা অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খবর পেয়ে সরোজগঞ্জ ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, এই মৃত্যুর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার স্থানীয় নিউজ পোর্টাল রেডিও চুয়াডাঙ্গার নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুর রহমান (২৫) সদর থানায় বাদি হয়ে ফয়সাল আহম্মেদ (১৯), সায়িম ইসলাম (১৮), আল মাহমুদ (১৯), এই তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গ এলাকায় ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় সরোজগঞ্জ এলাকার কয়েকজন তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জন তার ওপর চড়াও হয়। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারধর করে নীলাফোলা জখম করে।

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান এবং পরে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক আলোচনার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে, সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার কর্মরত সংবাদকর্মীরা। দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More