রেমিট্যান্স ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদান: চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিক (সিআইপি) কে গণসংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার:গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রেমিট্যান্স ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদান রাখায় চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান টরিক (সিআইপি) কে গণসংবর্ধনা দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স ভবনে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. ইয়াকুব হোসেন মালিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোমিন। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ফুলেল শুভেচ্ছা জানান—
চুয়াডাঙ্গা আলী হোসেন সুপার মার্কেট মালিক সমিতি, আব্দুল্লাহ দিটি মালিক সমিতি, ফাতেমা প্লাজা মালিক সমিতি, প্রিন্স প্লাজা মালিক সমিতি, সেনেটারি দোকান মালিক সমিতি, কোদারগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতি, রেল বাজার দোকান মালিক সমিতি, হলপট্টি দোকান মালিক সমিতি, নিচের বাজার মালিক সমিতি, মৎস্য আড়ৎ দোকান মালিক সমিতি, ভালাইপুর বাজার মালিক সমিতি, আলুকদিয়া বাজার মালিক সমিতি, গমপট্টি মালিক সমিতি, সাতগাড়ি দোকান মালিক সমিতি, বড় বাজার গলি মালিক সমিতি, মোহাম্মদী শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতি, সমবায় নিউ মার্কেট মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশক মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতি এবং চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা দোকান মালিক সমিতির সদস্য সচিব সুমন পারভেজ। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ অতিথি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে (মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান টরিক, সিআইপি) বলেন
“আমি একদিনে সিআইপি হইনি। দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম, কষ্ট, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আপনারা আমাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি চুয়াডাঙ্গায় ব্যবসা করতে আসিনি কিছু নিতে, আমি এসেছি দিতে।”
তিনি বলেন,
“যারা ব্যবসা করেন, তাদের উদ্দেশে বলবো—সব সময় খেয়াল রাখবেন আপনার আয় হালাল না হারাম। আমরা ব্যবসা করবো, কিন্তু সৎ পথে করবো। সততার মধ্যেই ব্যবসার প্রকৃত বরকত।”

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা যে পরিবর্তনের কথা বলি, তার প্রথম ধাপ হলো ব্যবসায়ী সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। যেকোনো ব্যবসা ছোট করে শুরু হয়, কিন্তু পরিশ্রম, ধৈর্য ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তা বড় হয়।”

যুব সমাজ ও মাদক বিষয়ে তিনি বলেন,
“চুয়াডাঙ্গায় এলেই শুনি যুব সমাজ দিন দিন মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ ব্যবসায়ীদের শপথ নিতে হবে—যে নেতা মাদকের আশ্রয় দেয়, তাকে আমরা চাই না। আমি একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে এই সমাজ থেকে এই কলুষতা দূর করতে চাই।”

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ব্যবসা করতে হবে চাঁদা দিয়ে—এই সংস্কৃতি আমি চাই না। ব্যবসা হবে ন্যায্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে, জোর করে নয়।”

সময় ব্যবস্থাপনা ও সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন,
“সময়কে কাজে লাগান। যত বেশি সময় ব্যবসায় দেবেন, তত বেশি সফল হবেন। প্রথমে নিজের কথা ভাবুন, পরিবারের কথা ভাবুন। এরপর সমাজ ও দেশের কথা ভাবুন।”

চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে অঙ্গীকার করে তিনি বলেন,
“এই চুয়াডাঙ্গাকে যা যা করা দরকার, ইনশাআল্লাহ আমি করে যাবো। আমার ইতিহাস কখনো পিছপা হয়নি। আপনারা আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।”

সবশেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“আজকের এই সম্মান আমার জন্য শুধু একটি স্বীকৃতি নয়, এটি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক সহ চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে শেষ হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা সংবর্ধিত অতিথিকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More