বার্ষিক আলিঙ্গন স্মরণছায়া : সাধারণ সভায় দ্বি-বার্ষিক কমিটি পুনঃনির্বাচিত
স্টাফ রিপোর্টার: যে আয়োজন অতীতকে সম্মান জানায়, সামনের দিনগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করে, সেই আয়োজনই ‘প্রতীত’ প্রতিবছর অন্তত একবার হলেও করে। এবারও প্রতীত’র বার্ষিক আলিঙ্গন সম্পন্ন হলো গতপরশু শুক্রবার। স্মরণছায়া শিরোনামে সামিয়ানার নিচে দিনভর রকমারি আয়োজনে মেতে ছিলেন বন্ধু হয়ে বন্ধুর পাশে থাকার অঙ্গিকারে আবদ্ধ বন্ধুরা।
বক্তব্য রাখেন আহ,মেদ দানিয়েল ইসলাম
আবির স্বশরীরে উপস্থিত থেকে যেমন ছড়িয়েছে আবির, তেমনই তিনি তথা ইকরামুল ইসলাম আবির বক্তব্যে বলেছেন, প্রতীত প্রতিবছর প্রত্যাশা পূরনে শুধু পারদর্শিতাই দেখাচ্ছে না, উঠছে অনন্য উচ্চতায়। দৈনিক মাথাভাঙ্গা প্রাঙ্গনে দিনের শুরুতে বন্ধুবরণে রকমারি ডালি নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকার পালা শেষ হতেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। প্রতীত সভাপতি মো. আব্দুস সালামের উদ্বোধনী ঘোষণার সাথে সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরুর পর প্রয়াত বন্ধুদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন কোষাধ্যক্ষ সাজ্জাতুল আলম রাজু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সাগর উপস্থাপনায় মাতিয়ে তোলেন সকলকে। সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যে ‘সকল বন্ধুর সহযোগিতাগুলো বিষদে তুলে ধরে বন্ধু হয়ে বন্ধুর পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ে সকলকে আবারও আবদ্ধ করেন। তিনি প্রবাসী বন্ধু সামসুজ্জামান সেলিম, এবার সরাসরি আয়োজনে উপস্থিত হওয়া আতিকুর রহমান আতিক, মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম সজলসহ সকলের নাম উল্লেখ করে দেশেই কাছে ও দূরে থাকা বন্ধুদের অকৃত্তিম আন্তরিকতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। বলেন, এবারই প্রথম আমারা স্মরণছায়া নাম দিয়ে স্মরণীকা প্রকাশ করেছি। প্রতিবারের মত এবারও আয়োজনেরও নামে আনা হয়েছে নতুনত্বতা। স্মরণছায়া। এছায়ায় সত্যিই আমরা শতাধীক বন্ধু একসাথে শিক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি। ৮৬ ব্যাচকে ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও সংগঠনের স্বপ্নদ্রষ্ঠা লে. কর্নেল (অব) আহমেদ দানিয়েল ইসলামসহ প্রায় সকলের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটিয়ে সমমনাবন্ধুদের সমপৃক্ততার মধ্য দিয়ে যেমন বাড়ানো হয়েছে পরিধি, তেমনই দিন দিন হয়ে উঠছে সমৃদ্ধ। যখনই কোন বন্ধুর শারীরিক কিম্বা অন্য কোন সমস্যার খবর পায় প্রতীত, তখনই বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর তোড়জোড় সত্যিই সমাজে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। ঢাকার বন্ধু রতন, নাজিম, মাহাবুব, তুহিন, রানা, তমাল, সিদ্দিক, কল্লোল, বকুলসহ সংগঠনের স্বপ্নদ্রষ্টার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়।’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার আগরওলা তার মায়ের চিকিৎসাজনিত কারণে দেশের বাইরে থাকায় তিনি ভার্র্চুয়ালি আয়োজনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সেলফোনে। স্মরণছায়া প্রকাশনায় সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা সংগঠনের সহ সভাপতি সরদার আল আমিন তার বক্তব্যে বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বেগবান হয়ে ওঠার কৃতিত্ব শুধু কার্যকরি কমিটির নয়, সকল সদস্যের। আলোচনার পরপরই শুরু হয়ে বার্ষিক সাধারণসভা। এ পর্বে উপস্থাপিত হয় দ্বি-বার্ষক কমিটির মেয়াদ পূর্ণহওয়াই নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গ। সংগঠনের স্বপ্নদ্রষ্ঠার দীর্ঘ বক্তব্যের পর সকলের শতস্ফূর্ত কণ্ঠভোটে সভাপতিসহ সকল পদে সকলকে পুননির্বাচিত করার হয়। এ কমিটিতে রয়েছেন, সভাপতি মো. আব্দুস সালাম, সহ সভাপতি সরদার আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার আগরওলা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহা. ফজলে রাব্বি সাগর, দফতর সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রুবেল, কোষাধ্যক্ষ সাজ্জাতুল আলম রাজু, আইন বিষয়ক সম্পাদক তামিল হোসেন, নির্বাহী সদস্য এএনএম আশিফ, নুঝাত পারভিন, আবু সাঈদ বিটু, রফিকুল ইসলাম ফিট্টু, হাসানুল আলম শান্তি, শফিকুল ইসলাম শফি। কার্যকরি কমিটিতে শিরিনা ইয়াসমিন ডলিকে সদস্য হিসেবে সংযুক্ত করে ১৩ জনের কমিটিকে ১৫ জনে উন্নীত করা হয়। সাধারণ সভা শেষে শুরু হয় মুক্ত আলোচনা।
পবিত্র জুম্মার নাম বিরতীর পর মধ্যহ্নভোজ শেষে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে বন্ধুদের কৃতি ৭ সন্তানকে তাদের পিতা মাতার হাত দিয়েই দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। এদের মধ্যে এক সন্তান বুয়েটে সরাসরি মেধাতালিকায় থেকে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অপর এক বন্ধু দু সন্তানের মধ্যে মেয়ে হারভার্ড ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে, ছেলে এবার লেফটেন্ট হিসেবে দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। একবন্ধুর ছেলে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার পর সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছে। অপর এক বন্ধুর একমাত্র কন্যায় উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপে রয়েছে যুক্তরাজ্যে। এরকম কৃতিত্বের অধিকারী পিতার হাত দিয়ে সন্তানকে সম্মাননা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রতীতের সকল সদস্যই সম্মানিত হলেন বলে অভিমত দেন প্রতীত সভাপতি। শেষে ছিলো র্যাফেল ড্র। অর্ধশতাধীক পুরষ্কারেভূষিত বন্ধুদের উল্লাস শেষমূহুর্তে সামিয়ানাতল মুখোরিত হলেও মাগরিবের আগে সমাপনিটা ছিলো বিদায়ের বেদনা। কোন কোন বন্ধু গেয়ে ওঠে, বন্ধু এ দেখায় শেষ দেখা নয়…..। আবার আসছে বছরের অপেক্ষায়।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.