আলমডাঙ্গার খোরদ গ্রামে পিতলের কলসি থেকে ৫ ধাতব মূতি উদ্ধার।গুপ্তধন গুঞ্জনের অবসান: সোনা নয় মিলেছে তামার অস্তিত্ব।
হাটবোয়ালিয়া/ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে একটি পিতলের কলসি থেকে পাঁচটি সোনালি রঙের ধাতব মূর্তি উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মূর্তিগুলো উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিক গুজবের মতো এগুলো সোনার তৈরি নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, খোরদ গ্রামের বাসিন্দা চিনিরদ্দির ছেলে আবুল মুজাম নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভিটার মাটি খননের সময় কয়েক দিন আগে একটি পুরোনো পিতলের কলসি খুঁজে পান। তবে বিষয়টি প্রকাশ না করে তিনি কলসিটি নিজ বাড়ির পুরোনো উঠোনে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির একটি দল আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় সোমবার বিকেলে মুজামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে পুঁতে রাখা কলসিটি উদ্ধার করা হয়। কলসির ভেতরে লাল কাপড়ে মোড়ানো পাঁচটি দেব-দেবীর ধাতব মূর্তি পাওয়া যায়, যেগুলোর রং সোনালি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে মুহূর্তেই ‘স্বর্ণের গুপ্তধন’ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে মূর্তিগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হলে সোনার অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ‘উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মূর্তি প্রাথমিক পরীক্ষায় সোনার তৈরি বলে প্রমাণিত হয়নি। মূর্তিগুলোতে আনুমানিক ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সোনালি রঙের প্রলেপ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, মূর্তিগুলোর গঠন, মোড়ক ও সংরক্ষণের ধরন দেখে এগুলো পুরাকীর্তি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূর্তিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-এই মূর্তিগুলো কত পুরোনো, কে বা কারা এগুলো মাটির নিচে সংরক্ষণ করেছিল এবং এর সঙ্গে কোনো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জড়িত রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিস্তারিত তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.