ক্ষমা না চাইলে ক্যান্টনমেন্টে জামায়াত প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান সম্প্রতি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যান নিয়ে প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। এ ঘটনায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। নাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পিএনজি বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব.) স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং সেনা সদস্যদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

সংগঠনটির মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ সামরিক বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার লাইসেন্স দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়, বরং এটি একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই প্রার্থী যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ বন্ধের অঙ্গীকার না করেন, তাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পিএনজি (পারসোনা নন গ্রেটা) ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে।

রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর মর্যাদা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সংগঠনটি কোনো আপস করবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, খালিদুজ্জামানের ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গানম্যানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী তাকে আটকে দেয়। তখন তাদের মধ্যে কথাকাটি হয়।

এক সেনাসদস্য বলেন, ‘আমিতো আপনাকে যেতে নিষেধ করিনি। আপনাকে বলেছি আপনি শুধুমাত্র যান। কিন্তু আমাদের ক্যান্টনমেন্টে গান নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে ঢোকা নিষেধ।’ একপর্যায়ে জামায়াতের এই প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারব না।’

সেনাসদস্যদের উদ্দেশ করেও তিনি অভিযোগ করেন, ‘আপনারা দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে বিতর্কিত করছেন।’

মোবাইল ফোনেও খালিদুজ্জামান কথা বলেন এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখান থেকেও কোনো নির্দেশনা না পেয়ে তিনি গাড়িতে উঠে চলে যান।

এ ঘটনায় দুপুরে খালিদুজ্জামান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। তবে তার সেই দুঃখ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এবার এলো কঠোর বিবৃতি ও আলটিমেটাম।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More