স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর সারগুদামে শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আন্দোলনের কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সার উত্তোলনে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার ডিলাররা।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগরে অবস্থিত বিএডিসি সারগুদামে কর্মরত ৩৬ জন শ্রমিক সম্প্রতি শ্রমিক সর্দার মঞ্জুর ওরফে ডাসার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের দাবি, গত ২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে মঞ্জুর ওরফে ডাসার নেতৃত্বে তারা কাজ করলেও তিনি তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাসোয়ারা আদায় করে আসছেন। এছাড়া তার নিকটাত্মীয় কয়েকজন শ্রমিক বাস্তবে কাজ না করেও কাগজে-কলমে শ্রমিক হিসেবে দেখিয়ে লেবার বিল উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে সারগুদাম খোলার পর শ্রমিকদের সঙ্গে মঞ্জুর ওরফে ডাসার কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চুয়াডাঙ্গা অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শ্রমিকরা স্থান ত্যাগ করলেও গুদামের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, “মঞ্জুর ওরফে ডাসা অস্ত্র নিয়ে গুদামে এসে সর্দারির দায়িত্ব পালন করে। সে আমাদের হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত টাকা আত্মসাৎ করছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জুর ওরফে ডাসা বলেন, “আমি এখানে সর্দার হিসেবে দায়িত্বে আছি এবং নিয়ম মেনেই কাজ করছি। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে বিএডিসি চুয়াডাঙ্গার উপসহকারী পরিচালক (সার) শংকর দাশ বলেন, “যথানিয়মেই সার বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। শ্রমিকদের সমস্যার কারণে আজ তা ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে সার প্রদান শুরু হবে।”
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান শ্রমিকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছিল খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ী পুলিশের এস আই বাবুল সহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, কোন সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি পরিস্থিতি শান্ত আছে ।এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কৃষিপ্রধান চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিএডিসি গুদাম থেকে দুই শতাধিক ডিলার সার সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে সরবরাহ করেন। তবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন শ্রমিক ও ডিলাররা।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.