দুপুরে বিয়ে বিকালে মৃত্যু, বর-কনেসহ নিভে গেলো ১৪ প্রাণ

স্টাফ রিপোর্টার:একদিন আগেও যে বাড়িতে বাজছিলো বিয়ের সানাই, হাসি–আনন্দে মুখর ছিলো আঙিনা—মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বাড়িতেই এখন বুকফাটা আর্তনাদ। আনন্দের আলো নিভে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে কনের বাড়ি খুলনার কয়রা থেকে বরের বাড়ি মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলো বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা পৌঁছাতে পারেনি গন্তব্যে। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় ঘাতক বাসের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান বর–কনেসহ অন্তত ১৪ জন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে মোংলার আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর লাল শাড়ি ও হাতে মেহেদির রঙ নিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্নে শ্বশুরবাড়ির পথে রওনা দেন নববধূ। মাইক্রোবাসটিতে ছিলেন কনের ছোট বোন, নানী ও দাদিসহ পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে বরের বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই–ভাবি, ভাতিজা–ভাতিজি, বোন ও বোনের স্বামীসহ স্বজনরা যাচ্ছিলেন মোংলার উদ্দেশে।

কিন্তু বিকাল চারটার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় মাঝপথে নৌবাহিনীর একটি বাসের ধাক্কায় মুহূর্তেই থেমে যায় বর—কনেসহ অন্তত ১৪ প্রাণ। নববধূ মার্জিয়ার পরনে তখন লাল শাড়ি, হাতে তাজা মেহেদির রঙ। বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। লাল শাড়ি জড়িয়েই মার্জিয়ার মরদেহ নেওয়া হয় মর্গে।

বরের বাবা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর দুর্ঘটনার খবরে মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে মোংলা ও কয়রা এলাকায়। যারা দুপুরে বর–কনেকে আশীর্বাদ করে বিদায় দিয়েছিলেন, তারাই এখন নিহতের নিথর দেহ জড়িয়ে আহাজারি করছেন।

নির্মম এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আনন্দের যাত্রা যে এভাবে শোকযাত্রায় পরিণত হবে—তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো ১৪টি স্বপ্ন, আর শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিলো দুইটি পরিবারকে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More