নিজ গ্রামে বেড়ে ওঠা তরুণদের মানবিক উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন—পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চুয়াডাঙ্গায় দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গার গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্রাইড অব গাইদঘাট”। সংগঠনটির উদ্যোগে দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঈদকে সামনে রেখে গ্রামের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বলে জানায় আয়োজকরা।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, আগে থেকেই গ্রামের পিছিয়ে পড়া পরিবারের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে সেই তালিকা অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন, যাতে কেউ বঞ্চিত না থাকে এবং সম্মানের সঙ্গে সহায়তা পায়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, সাবান, আটা, লবণ, সেমাই ও চিনি—যা একটি পরিবারের ঈদ উদযাপনে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য হিসেবে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনের সদস্য মোনারুল হাসান সুমন বলেন, “২০১৭ সালে আমরা কয়েকজন গ্রামের বন্ধু মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তুলি।
এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি উদ্যোগ। আমরা কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, আবার কেউ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত—বিভিন্ন পেশায় থাকা সত্ত্বেও গ্রামের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা একত্রিত হয়েছি। নিজেদের উপার্জনের একটি অংশ থেকে তহবিল গঠন করে সময়ে সময়েই গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের সঙ্গে ছোটবেলা কেটেছে, যারা নানা কারণে পিছিয়ে পড়েছে—তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য শফিকুল ইসলাম, সুমন, ইভান, আবুল বাশার, রাজন হোসেন, তারেকসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রামের সন্তানরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আবার নিজ গ্রামে ফিরে এসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন—এটি বর্তমান সমাজে বিরল একটি দৃষ্টান্ত। তারা সংগঠনের সদস্যদের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।
এদিকে গ্রামের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মানবিক এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এমন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.