জীবননগর রায়পুরে গোডাউনে আগুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা মিথ্যা আখ্যায়িত করে সাংবাদিক সম্মেলন

 

জীবননগর ব্যুরো: জীবননগর উপজেলার রায়পুর ঈদগাপাড়ার নার্সারি ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস মোল্লার বাড়ির একটি গোডাউনে গত বুধবার সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। এ আগুনে গোডাউনে রক্ষিত ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে দাবি করে ওই দিনই জীবননগর থানাতে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত ওই মামলাটি মিথ্যা ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিত ভাবে দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। শহরের একটি হোটেলের সভাকক্ষে এ সাংবাদিক সম্মেলনে রায়পুর ইউনিয়নবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন বাবুর আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর, মারুফদহ ও কৃষ্ণপুর গ্রামের নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমরা আপনাদেরকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, রায়পুর ঈদগাহপাড়ার মোল্লা নার্সারির মালিক রুহুল কুদ্দুস ছেলে সাদাম হোসেন হোসেনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তারই নার্সারির মহিলা কর্মী রেখা খাতুনের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক এবং রেখা খাতুনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রেখা খাতুন ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ গত বুধবার সকালে সাদ্দাম হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে তাদের বাড়ির সাথে থাকা গোডাউনে আগুন লাগে। আগুন কি ভাবে লাগে তা রুহুল কুদুস মোল্লা সে সময় বলতে না পারলেও পরবর্তীতে এলাকার নিরীহ মানুষ ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার বাদি রেখা খাতুনসহ বাবর আলী, আব্দুল আলিম, শরিফ ও কবির হোসেনদের নামে জীবননগর খানায় একটি মিথ্যা মামলা করেন। তারা পরিকল্পিত ভাবে তার গোডাউনে বুধবার সকাল অনুমান সাড়ে ৯টার সময় আগুন দিয়ে ৭৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। অথচ জীবননগর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃকপক্ষের দাবি ঘটনাস্থলে বৈদ্যুতিক সার্কিটের ফলে আগুনের সুত্রপাত ঘটেছে এবং সেখানে এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে রুহল কুদ্দুস মোল্লার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আবু হুরাইরাদের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক নারী কেলেঙ্ককারি ঘটনা রয়েছে। সর্বশেষ সাদ্দাম হোসেন তার নার্সারির নারী কর্মী রেখা খাতুনের সাথে আপত্তিকর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে এবং সেই মামলা হতে কোনোভাবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় তারা উক্ত রেখা খাতুনসহ এলাকার বেশ কিছু মানুষের বিরুদ্ধে থানা-কোর্টে ৭টি মিথ্যা মামলা দেয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চিন্তা করে মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদেরকে রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফি নানা ভাবে হয়রানিও করে। অন্যদিকে সাদ্দাম হোসনের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা আপত্তিকর অভিযোগ থাকলেও বিএনপি নেতা রফি মিয়া কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

আগুনের ঘটনার পর রুহুল কুদ্দুস মোল্লা পুলিশ এবং স্থানীয় বহু মানুষের নিকট আগুনের সূত্রপাতের কথা না জানালেও এবং জীবননগর ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আগুনের সুত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রকাশ করলো রুহুল কুদ্দুস মোল্লা পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ দমনের নামে এবং তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের মামলার বাদীর পক্ষের লোক মনে করে আগুনের ঘটনায় রেখা খাতুন, বাবর আলী, আব্দুল আলিম, শরিফ, কবির হোসেনরা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।  আমাদের বিশ্বাস বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রফির মাধ্যমে জীবননগর থানার ওসিকে প্রভাবিত করে আগুনে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে মিথ্যা বানোয়াটি মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা হতে রক্ষা পাওয়ার হীন মানসিকতায় আগুনের ঘটনাটি একটি সাজনো নাটক সৃষ্টি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা মিথ্যা মামলার ঘটনায় তীর নিন্দা, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মিথ্যা মামনা দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান করছি। এব্যাপারে আমরা সাংবাদিক সমাজের নিকট ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ মিথ্যা মামলার ব্যাপারে রুহুল কুদ্দুস মোল্যা ও তার ছেলেদের নানা অপকর্মের ব্যাপারে তথ্য ভিত্তিক নিউজ করার জন্য অনুরোধ করছি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More