জীবননগরের আনসারবাড়ীয়ায় রেললাইনে বড় ধরনের ফাটল
আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেল স্টেশনের অদূরে রেললাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় একদল যুবকের বুদ্ধিমত্তা ও লাল পতাকার সতর্ক সংকেতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে খুলনাগামী আন্তঃনগর ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে আনসারবাড়ীয়া স্টেশনের ১১ নম্বর পয়েন্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহীগামী ‘আপ মহানন্দা’ ট্রেনটি আনসারবাড়ীয়া স্টেশন অতিক্রম করার পর লাইনের একটি অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক রেললাইনের এই ভয়াবহ ফাটল দেখতে পান। ঠিক সেই মুহূর্তেই খুলনাগামী ডাউন আন্তঃনগর ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বিপদ আঁচ করতে পেরে যুবকরা দ্রুত লাল পতাকা উড়িয়ে ট্রেনটিকে থামানোর সংকেত দেন। সংকেত পেয়ে চালক ট্রেনটি ফাটলযুক্ত স্থানের কিছুটা দূরে থামিয়ে দেন। পরে অত্যন্ত ধীরগতিতে ও সতর্কতার সাথে ট্রেনটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পার হয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর মোবারকগঞ্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং চুয়াডাঙ্গা সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জনবল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মেরামত কাজ শুরু করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলছিলো বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিভাগীয় প্রকৌশলী ও চুয়াডাঙ্গা সহকারী প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। উথলী রেল স্টেশন মাস্টার মিন্টু রায় জানান, ১১৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৬/৮ এলাকায় রেললাইন ভেঙে গিয়েছিল। তবে এতে ট্রেন চলাচলে বড় কোনো বিঘœ ঘটেনি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থলে ১০ কিলোমিটার গতিসীমায় ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। লাইন মেরামতের কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাত ১টার দিকে একই পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় ৩১টি তেলের খালি কন্টেইনারবাহী একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছিল। বারবার একই স্থানে এমন বিভ্রাটে রেললাইনের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.