প্রায় ১১ হাজার লিটার তেলসহ লরি জব্দ : গ্রেফতার ৪

আলমডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা গ্রামে অবৈধ মজুদকালে পুলিশের অভিযান

 

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবৈধভাবে মজুদ ও খালাসের সময় প্রায় ১১ হাজার লিটার পেট্রোল-অকটেন জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোররাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা-খাদিমপুর সড়কে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি তেলবাহী ট্যাংক লরি থেকে ড্রামে তেল ভরার সময় ৮ ব্যারেল পেট্রোলসহ একটি ট্রাক্টরের ট্রলি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ট্যাংক লরিটিও আটক করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে আলমডাঙ্গা থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গার বড়গাংনী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই পবিত্র মণ্ডল ও এএসআই ইব্রাহীম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। স্থানীয় ব্যবসায়ী টিটন আলীর মুদি দোকানের পেছনে ‘ঢাকা মেট্রো-ফ-১১-০০৬৬’ নম্বরের একটি ট্যাংকলরি থেকে অবৈধভাবে ড্রামে তেল আনলোড করার সময় তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ট্রাকটিতে বিপুল পরিমাণ চোরাই জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। ট্রাকটিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল এবং ৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন ছিলো। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-চুয়াডাঙ্গা সদরের দৌলাতদিয়াড় গ্রামের মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে ও ট্যাংকলরি চালক আলী হোসেন (৫৩), তার দুই সহকারী মোজাম হোসেন (৪৫) ও রাহেন আলী (২৮) এবং আলমডাঙ্গার তেল গ্রহীতা টিটন আলী (৩৭)। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারা খুলনার যমুনা ডিপো থেকে এই তেল নিয়ে এসেছিল বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করা হচ্ছিল। তারা খুলনা যমুনা ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, জব্দকৃত তেলের মালিক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড়ের মৃত বিশাল আলীর ছেলে মোহাম্মদ বাপ্পী। পাশাপাশি এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় তেল সরবরাহ করা হতো বলে পুলিশ দাবি করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন কয়রাডাঙ্গার টিটন, ভাংবাড়িয়া এলাকার মিনারুল স্টোরের মালিক মিনারুল, হাট বোয়ালিয়ার পলাশ অটোমোবাইলসের মালিক আশিকুর রহমান পান্না এবং হারদি বাজারের বিশ্বাস স্টোরের মালিক সুমন। তবে এদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন জড়িত থাকলেও তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামাল আল নাসের জানান, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারি রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যকর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্থানীয়সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আসছিল। এতে পরিবহন খাতসহ সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতির পেছনে এ ধরনের অবৈধ মজুত বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের চক্র নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল উত্তোলন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More