বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মাদকসহ আটক ২ : প্রাইভেট কার জব্দ

জীবননগরে হাসাদাহে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান

 

জীবননগর ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৭৬ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারসহ ৪টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে জব্দকৃত মাদক ও প্রাইভেটকারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এসব তথ্য জানান। এর আগে, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে জীবননগর থানাধীন হাসাদহ বাজারের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিটে একযোগে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিশেষ চেকপোস্ট বসায়। অভিযান পরিচালনা করেন এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম, এএসআই মো. রজিবুল হক, শ্রী রমেন কুমার সরকার ও আরিফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স। ডিউটি করাকালে একটি সিলভার রঙের এলিয়েন প্রাইভেটকারকে সন্দেহভাজন হিসেবে গতিরোধের সংকেত দেয়া হয়। কিন্তু প্রাইভেটকার চালক গাড়ি থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কলাগাছিয়া গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে মো. আলিম হোসেন (৩৬) এবং বাবু জমাদারের ছেলে জনি (৪০)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের হেফাজত ও প্রাইভেটকার তল্লাশি করে সর্বমোট ৫৭৬ বোতল নেশা জাতীয় কথিত মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক বহনে ব্যবহৃত এলিয়েন প্রাইভেটকারটি (আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা) এবং আসামিদের নিকট থেকে ৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলো। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More