নারী এমপিদের নিয়ে আমির হামজার মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার: কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজার নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা ‘বডি শেমিং’ মন্তব্যে দেশজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপি আমির হামজা সংসদে তার পাশে বসা নারী এমপিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের প্রসঙ্গ টেনে তাদের শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি করেন। ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘রুমিন ফারহানা আপা আছে, মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে-ফারজানা শারমিন। আমার ডানে-বামে এমন ভুঁড়িওয়ালা লোক পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ডানে-বামে ভুঁড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুঁড়ি, আমার মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।’ ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রচুর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টির প্রতিবাদে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বুধবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে গিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে তারা আমির হামজার মন্তব্যকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে আমির হামজার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি লেখেন, আমির হামজার মতো মিসোজিনিস্ট লোক কীভাবে জনপ্রতিনিধি হয় আমি বুঝি না। কতটা নীচ মানসিকতার হলে নারী-পুরুষ সাংসদদের জড়িয়ে বডি শেমিং করে। জামায়াতের উচিত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে আমির হামজার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম। পোস্টে তিনি লেখেন, ওয়াজ মাহফিলের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে নারী সাংসদদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য কুষ্টিয়া-৩ এর সাংসদ আমির হামজার প্রতি নিন্দা জানিয়ে রাখলাম। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। একই সঙ্গে মাহফিলের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করার দায়ও তাকে নিতে হবে। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার গণমাধ্যমে বলেন, ‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু বলে; সবকিছু কি তাকে শেখাতে হবে? তাকে দলীয়ভাবে বারবার সতর্ক করা হয়েছে—কেন্দ্র থেকে, স্থানীয়ভাবে—সব জায়গা থেকেই। আমরা তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলছি। আমরা খুব বিব্রত।’ সবশেষ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুমিন ফারহানা। এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, কুৎসিত ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এই বিষয়ে বিচার চাইছি। বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার ইমিডিয়েট আগে আমার যে সহকর্মী সংসদে বললেন, কথাটি দুঃখজনক নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই, আজকে (একটি ইংরেজি দৈনিকের নাম উল্লেখ করে) খবর প্রকাশিত হয়েছে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, কুৎসিত ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এ বিষয়ে বিচার চাইছি। আমি বিষয়টি সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি (স্পিকার) বিষয়টিকে দেখবেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More