স্টাফ রিপোর্টার: বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) গেজেট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ৭১ বিধিতে দেয়া নোটিশে মোহাম্মদ আব্দুল মালিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সারা দেশের মতো আমার এলাকায় অনেক ভুয়া মৃক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছে। এই নিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ক্ষোভ রয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।’ সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ‘বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।’যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে :প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (শরীয়তপুর-২) সফিকুর রহমানের (কিরন) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মীর অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পাদন করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাতকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণের অংশ হিসেবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির অনকূলে লাইসেন্স দেয়া হয়ে থাকে। দুবাইসহ এশিয়ার উন্নত দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপগুলো মন্ত্রী এ সময় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে হয়রানি ও প্রতারণা নির্মূলে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে বিশ্বের ১৭৬ দেশে :জামায়তের সদস্য নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আব্দুল লতীফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। জামায়াতের আরেক সদস্য কুষ্টিয়া-৩ আসনের আমির হামজার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এসব বাংলাদেশির মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত ছিল বলে মন্ত্রী দাবি করেন। সৌদি আরবে নারী কর্মীর সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে :জামায়াতের সদস্য রাজশাহী-৪ আসনের আব্দুল বারী সরদারের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তায় দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে নারী কর্মীর সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে কর্মী যে কোনো সময় পরিবার, দূতাবাস, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে পারেন। এনসিপির সদস্য কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার আগের মতো সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে আগ্রহী নয়। সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য শ্রম বাজার উন্মুক্ত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়ার মাধ্যমে পত্র যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী জাপানে পাঠাতে চায় সরকার : মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। অপরদিকে চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মীকে জাপান পাঠাতে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.