পচা কচুরিপানার স্তূপে পিচ্ছিল রাস্তা : বাড়ছে দুর্ঘটনা

 

পাঁচমাইল প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা সদরের বদরগঞ্জ থেকে কুতুবপুর পর্যন্ত নবনির্মিত সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক মজবুত করার অজুহাতে ব্যবহার করা কচুরিপানা সময়মতো অপসারণ না করায় তা পচে গিয়ে রাস্তায় পিচ্ছিল কাদার সৃষ্টি করেছে। এতে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা, আর দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন নির্মিত এই সড়কের দীর্ঘ অংশ জুড়ে পচা কচুরিপানার স্তূপ। নির্মাণের পর সেগুলো সরিয়ে নেয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি। রোদে শুকানোর বদলে বৃষ্টি আর অযত্নে কচুরিপানাগুলো পচে গিয়ে কালো ও পিচ্ছিল এক স্তরে পরিণত হয়েছে। এর ফলে পুরো রাস্তা জুড়েই ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পথচারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পাখিভ্যান চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়রা জানান, পচা কচুরিপানার কারণে রাস্তাটি সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে গেছে। ব্রেক ধরলেই চাকা স্লিপ করে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও পথচারী পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে সুফল মিলছে না। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নতুন রাস্তা পেয়ে আমরা খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন এই রাস্তা আতঙ্কের নাম। পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই আজ আমাদের এই ভোগান্তি।’ এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার ওয়াহেদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। কাজ শেষ করার পর সড়ক পরিষ্কারের নিয়ম থাকলেও কেন তা করা হলো না, সে বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সড়কটি দিয়ে বড় ধরনের কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত এই পচা আবর্জনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনমনে ক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More